কোভিড ভ্যাকসিন নিলে মদ খাওয়া যাবেনা : বিশেষজ্ঞদের বার্তায় সুরাপায়ীরা হতাশ
আর এন এস২৪.নেট
স্বাস্থ
তথ্য
কোভিড ভ্যাকসিন নিলে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের এই বার্তায় সুরারসিকদের মুখ ভার। এতো প্রায় লকডাউন এর অবস্থা! এক একটি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অবশ্য এক এক রকম নিষেধাজ্ঞা। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন নিলে চুরানব্বই দিন অ্যালকোহল ছোঁয়া যাবেনা। রাশিয়ার স্পুটনিক ফাইভ ভ্যাকসিন নিলে ষাট দিন মদ বিবর্জিতভাবে থাকতে হবে। মডার্নার ভ্যাকসিন নিলে বিয়াল্লিশ দিন মদ খাওয়া চলবেনা। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, অ্যালকোহল নিলেই ভ্যাকসিন কাজ করা বন্ধ করে দেবে। একদিকে কালান্তক করোনা, অন্যদিকে মোহময়ী সুরার হাতছানি। এক্ষেত্রে অবশ্য ভ্যাকসিনের জেতার সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলার মদ বিক্রেতাদের অবশ্য মাথায় হাত। লকডাউনে প্রচুর ব্যবসা হারিয়েছেন তারা। এরপর বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন বাজারে এলে বিক্রিবাট্টা কমবে। কিন্তু কমুক বাণিজ্য, আসুক ভ্যাকসিন এই নীতি নিয়ে চলছেন তারা। বাংলায় প্রতি বছর আশি লক্ষ কেস বিয়ার বিক্রি হয়। এক একটি কেসে চব্বিশটি বিয়ার-এর বোতল থাকে। ভারতে উৎপাদিত বিদেশি মদ বাংলায় বিক্রি হয় এক লক্ষ চার কোটি লিটার। এই বিক্রিতে ভাটা আসবে, কিন্তু সবার মতোই মদ ব্যবসায়ীরাও চাইছেন আগে ভ্যাকসিন আসুক, পরে খানাপিনা।
করোনা টিকার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার
থেকে বৃটেনে টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী টিকাগুলোর যেমন কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া থাকে, তেমনি এই করোনা টিকার ক্ষেত্রেও হালকা বা মাঝারি আকারের পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া হয়তো দেখা যাবে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
বা সম্ভাব্য সমস্যাগুলোর তুলনায় এ টিকা মানুষকে অনেক বেশি পরিমাণে সুবিধা দিবে । হাফপোস্টে
এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিশেষজ্ঞ যোভান মালদোনাডো বলেন, জনসাধারণের জন্য
এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেখানে জনগণকে সুস্থ রাখা, তারা যাতে আবার কাজে
ফিরতে পারে, পুনরায় স্কুলগুলোতে যেতে পারে এবং আমরা যেভাবে চাই সেভাবে স্বাভাবিক জীবনে
ফিরতে পারি।
তাই লোকেরা যখন এই কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ করবে তারপর তাদের অনুভূতিগুলো ঠিক কেমন হতে
পারে। সে বিষয়ে স্বল্প মেয়াদী কয়েকটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
* টিকা নেওয়ার স্থানে ব্যাথা: এই টিকা নেওয়ার পর দেখা গেছে যে ওই স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের শরীরে যে স্থানে টিকা নিয়েছে সেখানে বা তার আশেপাশে সামান্য ব্যাথা অনুভূত হয়। যা টিকা নেওয়ার খুব জোর ১২ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।
* মাথা ব্যাথা হতে পারে: করোনার টিকা গ্রহণের পর ক্ষত স্থানের ব্যাথা অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে মাথা ব্যাথাও হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই । এই ব্যাথা কিছুক্ষণের মধ্যে কমে আসে।
* সামান্য জ্বর জ্বর আসতে পারে: ফাইজার এবং মর্ডনার টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর জ্বর অনুভূতি হতে পারে। জ্বর এক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণে আসে না এবং বেশি সময়ও স্থায়ী হয়না। টিকা নেওয়ার ১২ থেকে ৩৬ ঘন্টা পর এই জ্বর আর থাকে না।
তবে প্রথম ধাপের তুলানায় দ্বিতীয় ধাপের টিকা নেওয়ার সময় এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো একটু বেশি শক্তিশালী হয়। এসময় ব্যাথার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই বলে জানান যোভান মালদোনাডো।