Apr 4, 2025

‘এশিয়ার ফিলিস্তিন’ ভাসানচরে রোহিঙ্গারা,

আর এন এস২৪.নেট

৪ঠা ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিয়ে রওনা দেয় কয়েকটি নৌযান। নতুন এক জীবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় শরণার্থীদের বহর। কিন্তু দূরবর্তী প্রতিশ্রুত কোনো ভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়নি তাদের। মেঘনার বিস্তৃত, কর্দমাক্ত নদী পথ দিয়ে চার ঘণ্টারও কম সময় ভাসতে ভাসতে নৌযানগুলো থামে ভাসানচরে। কোনো মতে ভেসে থাকা নবসৃষ্ট একটি দ্বীপ এই ভাসানচর। দ্বীপটির আয়তন কোনো বড় শহুরে পার্কের চেয়ে বেশি হবে না। আর এই দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের জন্য গ্রিড প্যাটার্নের, লাল ছাদের ঘর তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

তিন বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের হাতে ভয়াবহ জাতিনিধনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে এক লাখের স্থান হবে ভাসানচরে।

তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৩০ কোটি ডলার খরচ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর  তত্ত্বাবধায়নে নতুন বসতি স্থাপন করেছে। এ বসতি তৈরি করা হয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনবহুল ও অপরিচ্ছন্ন শরণার্থী শিবিরের নিরাপদ ও মানবিক বিকল্প হিসেবে।

পাকা দেয়াল ও সিমেন্টের মেঝে পেয়ে কিছু শরণার্থী খুশি হলেও, অনেকে এই আদর্শ বসতির চিরস্থায়িত্ব ও বিচ্ছিন্নতায় কোনো স্বস্তি দেখতে পান না। বরং, বিদ্যমান দুর্ভোগেরই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তাদের চোখে ভাসে। তাদের ভয়, দ্বীপটিতে নির্বাসনে গেলে বিশ্ববাসীর নজর থেকে দূরে সরে যাবে তারা। কমে যাবে মিয়ানমারে নিজেদের আসল বাড়িতে ফেরার সম্ভাবনা।
ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের আম্বিয়া পারভীন সতর্ক করে বলেন, আমার দৃষ্টিতে, ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার পর আমাদের মানুষজন ধীরে ধীরে মরে যাবে। আমরা যেন এশিয়ার ফিলিস্তিনি হয়ে উঠছি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার প্রকল্প উদ্বোধন করেন। সেসময়ও একইরকম অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ভাসানচরে যখন নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখনো ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঝুঁকিপ্রবণ প্রত্যন্ত দ্বীপটিতে শরণার্থীদের একটি বড় অংশকে সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন কূটনীতিক ও ত্রাণকর্মীরা। এতে খরচ ও নেতিবাচক প্রচারণার বিষয় ছিল। এর পাশাপাশি তারা ধারণা করেছিলেন, শরণার্থীদের সেখানে সরিয়ে নেয়া হলে- রোহিঙ্গাদের এই অবস্থার দায় মিয়ানমারের বলে যে জোরালো যুক্তি বাংলাদেশ দেখিয়েছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়বে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য শেখ হাসিনা সরকার নিজ দেশ থেকেও চাপের মুখে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে তিনি গর্বিত ছিলেন যে, তার ১৬ কোটি ৫০ লাখ দেশবাসী এত বিশাল সংখ্যক মরিয়া শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে ও সহায়তা করেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে সাধারণ বাংলাদেশিদের অতিথিপরায়ণতা কমতে শুরু করে। শরণার্থী শিবিরগুলোয় সহিংস অপরাধ ও রোগবালাই ছড়ানোর গল্প ছড়িয়ে পড়ে। এর মাঝে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়ানোর আশঙ্কা এবং মিয়ানমার থেকে অস্ত্র ও ইয়াবার মতো সস্তা মাদকপাচার সেসব বাংলাদেশের বিতৃষ্ণা আরো বাড়িয়ে দেয়।

এসবের মাঝে, শরণার্থীদের মধ্যে উগ্রপন্থার উদ্ভব ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। শরণার্থী শিবিরগুলোয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তারা। বাংলাদেশ-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দাবি করেছে, ২০১৭ সাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হয়তো ১০০ রোহিঙ্গা খুন হয়েছেন। তবে সে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোকে হত্যাকাণ্ড বলাই বেশি যুতসই। এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো শিবিরগুলোর চারপাশে কাঁটাতারের বেষ্টনী নির্মাণ করেছে। প্রসঙ্গত, সবচেয়ে বড় শিবিরটিতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ বাস করে।

শরণার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত বছর সরকার তাদের কাছে সিম কার্ড বিক্রি না করতে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। টেলিকম অপারেটরগুলোকে শিবিরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত করতে নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে কয়েক মাস আগে নেটওয়ার্ক সেবা পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। কিন্তু সিম কার্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা এখনো জারি রয়েছে। এসবের পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের কোন ব্যাংক একাউন্টও খুলতে দেয়া হয় না, কাজ করতেও দেয়া হয় না। শিক্ষার সুযোগ সেখানে উপার্জন করার মতোই কঠিন। রোহিঙ্গাদের শিক্ষার সুযোগ দিতে সরকারকে চাপ দিচ্ছিল শিবিরে সক্রিয় এনজিওগুলো। সে চাপ
  প্রায় তিন বছর অগ্রাহ্য করে  অবশেষ গত এপ্রিলে রোহিঙ্গা শিশুদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল সরকার। কিন্তু তখনই করোনা মহামারী হানা দেয়।
সরকারের আচরণের সঙ্গে এই ভাসানচর পদক্ষেপ সঙ্গতিপূর্ণ।
  ঝামেলা সৃষ্টিকারী শরণার্থীদের দ্বীপে নিয়ে গিয়ে শায়েস্তা করা সহজ হবে। এছাড়া এতে মূল ভূখণ্ডের শিবিরগুলোয় ঘনবসতিও কমবে। হয়তো এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় যে, ভাসানচরের সকল রাস্তায় পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এটাও হয়তো কাকতালীয় নয় যে, শরণার্থী বিষয়ক কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়নের জন্য সরকার নতুন একটি কমিটি তৈরি করেছে। ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে অন্তত ১০ জন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু নেই কোনো রোহিঙ্গা প্রতিনিধি।

ত্রাণকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তিক্ততা থাকলেও, বাংলাদেশের এই দোটানা অবস্থার প্রতি অনেকেই সহানুভূতিশীল। মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটসের গবেষক জন কুইনলির মতে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ায় যদি তাদের দুর্ভোগের প্রতি বিশ্ববাসীর নজর আরো জোরালো হয় তাহলে তা শাপে বর হয়ে ওঠবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ জোরালো না করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ঠিক আছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, সংস্থাটির আন্তর্জাতিক ত্রাণের প্রধান সমন্বয়ক, শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা সন্তর্পণে এড়িয়ে চলেন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য ছোটো দাতব্য সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি পছন্দ করবে, ভাসানচরে প্রবেশাধিকার পেতে। এখন অবধি বাংলাদেশ দ্বীপটিতে সাধারণ সফর বা এই দ্বীপ কতটা নিরাপদ বা বাসযোগ্য তা যাচাই করার অনুমতি দেয়নি। এসব ব্যতিত জাতিসংঘ কোনো সহায়তা করতে পারবে না।

ভাসানচরের ঘরের পাশাপাশি স্কুল ও মেডিকেল স্থাপনাও রয়েছে। দ্বীপটির ঘরগুলো নিয়ে কয়েকজন শরণার্থী সন্তুষ্টি প্রকাশের খবর পাওয়া গেলেও, মূল ভূখণ্ডের শরণার্থীদের বেশিরভাগই সন্দেহপ্রবণ। সরকার দাবি করেছে, প্রথম দফায় দ্বীপটিতে নিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়েছেন। কিন্তু মূল ভূখণ্ডের অনেক শরণার্থী দাবি করেছেন, পুলিশের হুমকির মুখে, অর্থ পাওয়ার মিথ্যে আশায় ও বাধ্য করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের।
মূল ভূখণ্ডের শিবিরের এক বাসিন্দা রো বলেন, তাদের উচিৎ এটাকে বন্দী দ্বীপ বলা। এখানে অন্তত রোহিঙ্গারা সীমান্তের কাছাকাছি আছে। সংখ্যাও বেশি আছে।

(ইকোনমিস্ট থেকে অনূদিত)


RELATED NEWS
ভয়ঙ্কর প্রতারণা
ডিএনএ প্রোফাইলের মাধ্যমে সিআইডি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটিত
বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ৩৯তম স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আইন সার্জন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক :প্রয়াত
‘ভারতকে দেখুন, তারা কী নোংরা!’ : কেন হঠাৎ অবস্থান বদলালেন রিপাবলিক্যান এই নেতা?
কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা
পূজামণ্ডপে প্রবেশ নিষেধ, ঝুলাতে হবে ‘নো-এন্ট্রি নোটিশ’:কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
বুধবার আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় : বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনলাইন ক্লাস সেশনজট বৃদ্ধির শঙ্কা
আবার ও বাড়লো ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ
তাৎপর্যপূর্ণ সফরে ঢাকা আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান
প্রতি ১৬ সেকেন্ডে একটি মৃত শিশু জন্ম নিচ্ছে বিশ্বে
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই নারী বিজ্ঞানী
যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে কাঁপল বাংলাদেশ
কেন হোয়াইট হাউজ ডেঞ্জার জোন?
ভাঙ্গা বাবার ভবিষ্যৎবাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠির মাধ্যমে ট্রাম্পকে সমবেদনা জানিয়েছেন
নাথুরাম গডসে টুইটারে ‘টপ ট্রেন্ড’!নাথুরাম গডসের টপ ট্রেন্ড হওয়ার কারণ কী?
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে ফোনের তাৎপর্য
স্থলবন্দর খুলে দিতে ভারতকে অনুরোধ
অন্ধকার জগত: ভয়াবহ এক গ্যাং জাপান’স ইয়াকুজা
মিন্নিই মূলহোতা
ধর্ষণের অভিযোগে রাজশাহীতে গির্জার ফাদার গ্রেপ্তার
লখনৌয়ের আদালত বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় অভিযুক্ত সবাইকে খালাস দিয়েছে
বৃটেনের আপত্তি নেই খালেদা জিয়াকে ভিসা দিতে: হাইকমিশনার
কালো হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদীর পানি
নববধূ হাতে-পায়ে ধরলেও মন গলেনি ধর্ষকদের:সিলেট আদালতে নির্যাতিতার জবানবন্দি
বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
‘ও’ ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বরে