Apr 4, 2025

‘থার্টি ওয়ান ফার্স্ট নাইট’

জিয়াউদ্দীন চৌ:(জেড সেলিম)

বর্তমান বিশ্বেকে নতুন পরিভাষায় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বা বিশ্ববাসী একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ।বিশ্ববাসী একই এলাকার বাসিন্দা হতে গিয়ে যে সকল শর্তে ঐক্যমত্য হতে হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ন উৎসবগুলো সমস্ত বিশ্ববাসী একযোগে উদযাপন করবে ।অপরদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যক এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যক এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য।যা মূলত প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যাখ্যা। প্রত্যেক বর্ষেরই আছে বিস্তৃত ইতিহাস। দিন পেরুলেই হাজির হবে ইংরেজি ২০২১ সাল।

জেনে নেয়া যাক কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ?

আসলে আমরা যে ইংরেজি সাল বা খ্রিষ্টাব্দ বলি সেটা হচ্ছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আমরা এখন যে ইংরেজি বর্ষ পালন করি তা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। এর কিন্তু আবার আছে বিশাল ইতিহাস। আগে আমরা জেনে নেই সেটি।

গ্রেগরিয়ান আসলে একটি সৌর বছর। এর বর্তমান কাঠামোতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে কয়েকশ’ বছর। নানা পরিবর্তন পরিমার্জনের ফল আজকের ক্যালেন্ডার। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষ যেদিন বর্ষ গণনা করতে শিখলো সেদিন চাঁদের হিসাবেই শুরু করে বর্ষ গণনা। সূর্যের হিসাবে বা সৌর গণনার হিসাব আসে অনেক পরে। সৌর এবং চন্দ্র গণনায় আবার পার্থক্য রয়েছে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চন্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না।

বর্ষপঞ্জিকা তৈরির বিষয়টি লক্ষ্য করা গিয়েছিল সুমেরীয় সভ্যতায়। মিশরীয় আবার জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিসাব-নিকাশে ছিলো বেশ এগিয়ে। এই মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কার করে বলে ধারণা করা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিশরীয় সে ক্যালেন্ডার নিয়ে করেছেন বিস্তৃত গবেষণা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। ইউরোপকে বলা হয় শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্গ। সভ্যতার সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কিন্তু তারাই করেছে। আর এদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো গ্রিক ও রোমনরা।

রোমানরা আবার তাদের প্রথম ক্যালেন্ডার লাভ করে গ্রিকদের কাছ থেকে। মজার বিষয় রোমানদের প্রাচীন ক্যালেন্ডারে মাস কিন্তু ১২টি ছিল না।তাদের মাস ছিলো ১০টি।তাদের বছর ছিল ৩০৪ দিনে।আরো মজার ব্যাপার শীতের দুই মাস তারা বর্ষ গণনার মধ্যেই আনতো না।রোমানরা মার্চ মাস থেকে তাদের বর্ষ গণনা শুরু করত। নববর্ষ উৎসব পালন করতো মার্চ মাসের ১ তারিখে।বছর গণনায় ৬০ দিন বাদ যাওয়ায় তারা কিন্তু দিন, তারিখ বর্ণিত ক্যালেন্ডার ব্যবহারের কথা ভাবত না।

রোমের একজন বিখ্যাত সম্রাট রমুলাস। তিনি ছিলেন রোমের প্রথম সম্রাট। তিনিই নাকি আনুমানিক ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীকালে ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যোগ করেন রোমান সম্রাট নুমা। আর মাস দুটো হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। তিনিই জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাস হিসাবে যুক্ত করেন। জানুয়ারি মাস ২৯ দিনে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ধার্য করা হয় ২৮ দিনে। আরো মজার ব্যাপার এই বারো মাসের বাইরে তিনি মারসিডানাস নামে অতিরিক্ত একটি মাসেরও প্রবর্তন করেন। মাসটি গণনা করা হতো আবার ২২ দিনে। এ অতিরিক্ত মাসটি গণনা করা হতো এক বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ থেকে ২৪ তারিখের মাঝখানে।

নুমা চালু করা মাসের হিসাব পরিবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে। আমরা এখন যে লিপ ইয়ার পালন করি চার বছর পর পর তার প্রবর্তকও কিন্তু এই রোমানরাই। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোমে চালু করেন নতুন ক্যলেন্ডার। তিনি মিশরীয় ক্যালেন্ডার নিয়ে আসেন রোমে। জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সেই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝখানে ৬৭ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ২৩ দিনসহ মোট ৯০ দিন যুক্ত করে সংস্কার করেন ক্যালেন্ডার। পরবর্তে এ ক্যালেন্ডার পরিচিত হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে।

জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ, মে, কুইন্টিলিস ও অক্টোবর মাসের দিন সংখ্যা ৩১ এবং জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে দুইদিন যুক্ত করে ৩১ দিন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতে থাকে ২৮ দিনেই। আমরা যাকে এখন লিপইয়ার বলি সেই ফ্রেব্রুয়ারি মাসে প্রতি চার বছর অন্তর যুক্ত করা হয় একদিন। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম বদলিয়ে রাখা হয় জুলাই। আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস। তার নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম পাল্টিয়ে করা হয় অগাস্ট। ৩৬৫ দিনে সৌর বর্ষ গণনার কাজটা করত মিশরীয়রা। তবে জুলিয়াস সিজারের সংস্কারের ফলে তা এসে দাঁড়ায় ৩৬৫ দিনে।

আমরা যে খ্রিষ্ট বছর বা খ্রিষ্টাব্দ বলি, তার সূচনা হয় আরো পরে। খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিষ্টান পাদ্রী ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিষ্টাব্দের। ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দের কথা। রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন। তার নির্দেশে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাস থেকে দেয়া হয় ১০ দিন। এর ফলে ওই বছরের ৫ তারিখকে করা হয় ১৫ তারিখ।

পরে পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন, যেসব শতবর্ষীয় অব্দ ৪০০ দিয়ে বিভক্ত হবে সেসব শতবর্ষ লিপ ইয়ার হিসেবে গণ্য হবে। পোপ গ্রেগরি প্রববর্তিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মোটামুটি একটি নিখুঁত হিসাবে আমাদের পৌঁছে দেয়। বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। আজ আমরা যে ক্যালেন্ডার দেখে ইংরেজি বর্ষ হিসাব করি, উদযাপন করি নববর্ষ, তা সেই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ফসল।

 ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে।সাধারনত ঈসায়ী সালের শেষ মাস ডিসেম্বরের শেষ দিনের অর্ধরাত্র অতিবাহিত হওয়ার পর রাত ১২.০১ মিনিট থেকেই থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান আরম্ভ হয় ।বে ‍গ্রিনিজিমান সময় অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার শহর সিডিনিতে সবার প্রথম রাত ১২.০১ মিনিট বাজে ।সিডনিতে যখন রাত ১২.০১ মিনিট বাজে তখন বাংলাদেশে সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিট বাজার কারনে অনেকেই থার্টি ফার্স্ট নাইটের প্রথম প্রহর এ সময়ে উদযাপন করেন । বিভিন্ন দেশে থার্টি ফার্স্ট নাইটকে বিভিন্ন নামে নামকরন করা হয়েছে ।তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হল ‘থার্টি ওয়ান ফার্স্ট নাইট’।


RELATED NEWS
উদ্বোধন হলো “আনজারা” ওমেন ব্রাইডল ফ্যাশন হাউজ
বনানী ১১নং রোডে "আনজারা" ব্রাইডাল ফ্যাশন হাউজের উদ্বোধন
ফিরে দেখা ২০২০: ভবিষ্যৎে যেভাবে মনে রাখবে অতিমারীর প্রবল দাপটের অজানা’ এক ভাইরাস এসেছিল
সেন্ট নিকোলাস” থেকে “স্যান্টা ক্লজ”
করোনায় পশ্চীমের ক্রিসমাস
রহস্যে ঘেরা এই বাড়িটি কার?
আমেরিকার ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’
দিনে ৫ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার আনতে পারে মানসিক অবসাদ
বাড়ছে অস্ত্রধারী কিশোরদের গ্যাং কালচার: কিশোর গ্যাং
সৌদি আরবে হোটেলের এক রুমে অবিবাহিত নারী-পুরুষ থাকতে পারবেন
যেভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন
যে কারনে ১০০ বছর আগেও চুম্বনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়
করোনাভাইরাস মহামারীতে ইউরোপে সাইকেল বিপ্লব
মায়ের জিনের ওপর নির্ভর করে শিশুর বুদ্ধিমত্তা
সাক্কারা মরুভূমিতে পাওয়া গেল ডজন ডজন মমি
ড্রাগস ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ
'কনডেম সেল' কেমন হয়? সেখানে কিভাবে থাকেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা? অন্যান্য সেলের সাথে এর পার্থক্য কী?
কফি পানে মনব শরীরে শতকরা ৫০ ভাগ চিনি বাড়ায়
শিশুর মানসিক বিকাশ
আপনার সন্তান কি অনলাইন ক্লাস করছে? তা হলে মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম
ভার্চুয়াল পৃথিবীতে সন্তান কী করছে, তার খোঁজখবর রাখছেন তো?
প্রেম:জীবনে এগিয়ে যেতে চাইলে একতরফা প্রেমের যন্ত্রণা ভুলে যান
বেশি সময় বসে বাড়িতে কাজ করতে বোর লাগছে? তাহলে টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জেনে নিন
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে আপনাকেই