ডিএনএ প্রোফাইলের মাধ্যমে সিআইডি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটিত
জিয়াউদ্দীন চৌ: (জেড সেলিম)
পুলিশের অন্যতম শাখা সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে প্রায় ৩৫ হাজার ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো
নিউক্লিক অ্যাসিড) প্রোফাইল জমা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার প্রোফাইলে মিল পাওয়ার
কারণে সংঘঠিত ঘটনার অপরাধী শনাক্ত করেছে সিআইডি। বাকিগুলোর করতে পারেনি। তথ্য ভাণ্ডারে
ডিজিটাল ফরেনসিকের জন্য ৯ শতাধিক মামলার আলামত ছাড়াও ১৪০০টি চাঞ্চল্যকর মামলার প্রতিবেদন
প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধ সংঘটনের ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংগ্রহ করা আলামতের
নমুনা এবং সন্দেহভাজনদের নমুনা এক হলেই মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছে সিআইডি।
অধিকাংশ প্রোফাইলে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষায় হত্যার আগে তাকে
ধর্ষণ করা হয় বলে নিশ্চিত করা গেছে। এ আলামতের মধ্যে দেশের আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া
সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার আলামতও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডি’র ডিআইজি (ফরেনসিক) মো. শাহাদাৎ হোসেন গতকাল
জানান, ‘সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি ডিএনএ প্রোফাইল জমা আছে।
ফাইল ফটো
সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ফরেনসিক ল্যাবে ৬ হাজার
১৫১ মামলার ১৫ হাজার ৯০০, ডিজিটাল ফরেনসিক শাখায় ২০১২ থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার
৫৫২টি মামলায় ১১ হাজার ৯৪৪টি এবং ফরেনসিক ডিএনএ শাখার অধীন ২০১৬ সাল থেকে গত অক্টোবর
পর্যন্ত ১১ হাজার ৫০৯টি মামলায় ৯ লাখ ৯৬ হাজার ১৪০টি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বরে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যাচেষ্টা মামলার হামলাকারী
শনাক্ত হয়েছে সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে। ইউএনও-এর সাবেক
মালী গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলামের প্যান্টে ইউএনও-এর বাবার প্রোাফাইল পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, ৩১শে জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত হত্যাকাণ্ড সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত
মেজর সিনহা হত্যায় যে পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি শনাক্ত হয়েছে ফরেনসিক ল্যাবের
ব্যালিস্টিক পরীক্ষায়। এ ছাড়া আরো অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার সমাধান এসেছে সিআইডি’র
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। যা খুনের রহস্য উদঘাটনে নেপথ্যে থেকে তারা ভূমিকা পালন করেছে।
সূত্র জানায় প্রতিটি মানুষের ডিএনএ ভিন্ন। একজনের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে আরেকজনের
মিল পাওয়া যায় না। মিল পাওয়াটা আশ্চর্যজনক। তবে অনেক সময় প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের সময় সন্দেহভাজনের
নমুনার মিল পাওয়া না গেলেও কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা বা
ভিকটিমের নিকটাত্মীয়ের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তখন তাকে সহজেই শনাক্ত করা যায়।
এতে মামলার আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়। সূত্র জানায়, ডিএনএ আধুনিক প্রযুক্তি
নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি। ফরেনসিক ল্যাবে এখন পর্যন্ত ১২টি শাখা রয়েছে।
এই শাখার বিস্তারে তারা উদ্যোগ নিয়েছে। ১২টি শাখা বাদে চুল, বোতাম ও নষ্ট হওয়া আলামতের
ডিএন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ ছাড়াও যেসব মামলার এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন হচ্ছে না সে মামলারগুলোর
আর কি ডিএনএ করলে রহস্য উদঘাটন করা যাবে তা নিয়ে তারা গবেষণা করছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে আলামত সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার
উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।