Apr 4, 2025

রাজধানীতে বড় দিন উৎসব

আর.এন.এস২৪.নেট

করোনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে বড়দিনের উৎসবেও। এবার সব আয়োজনই হচ্ছে নিয়ন্ত্রিতভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে। মূল অনুষ্ঠান ঠিক থাকলেও অন্যান্য অনুষ্ঠান কমানো হয়েছে।

প্রত্যকে ধর্মের কিছু অনুষ্ঠানাদি রয়েছে যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।এই ধর্মীয় বিশ্বাসের উৎস হল তাদের প্রমাণ্য ধর্মীয় গ্রন্থ, মনোনীত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য।তাঁরা সীমাহীন ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে প্রেরিত বিধান সকল কুসংস্কার ও মিথ্যা বিদূরিত করে প্রকৃত সত্য এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠার করার প্রচেষ্টা চালিছেন। তাঁরা বিধাতা প্রদত্ত বিধান নিজে মেনেছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে বিপদগামী মানুষকে পরিত্রাণলাভের জন্য এই পথে আহবান করেছেন। অতএব, এসকল সম্মানিত ব্যক্তির স্মরণে বৈধ অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা স্বাভাবিক বৈকি।তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার জন্য একটি মৃত্যু দিবস বা জন্মদিবস ধার্য করলে দোষের কিছু হয় না।তবে প্রমাণ বিহীন হলেও  একটি মৃত্যুদিবস বা জন্মাদিবস নির্ধারণ করে সেই দিনে স্রষ্টা নিষিদ্ধ ভিন্ন কৃষ্টির উৎসব পালন করা প্রকারানত্মরে সেই ব্যক্তিত্বের অবমাননা তথা ধর্মদ্রোহীতা বৈকি।ধর্ম মানুষকে সৎ ও অকপট এবং সত্যাশ্রয়ী হতে শিক্ষা দেয়।সুতরাং ধর্মীয় কর্মকান্ডে বিভ্রান্তি থাকা বাঞ্চনীয় নয়।তাই একজন সৎ ও ধার্মিক হিসাবে প্রত্যেকেরই নিজ ধর্ম বিশ্বাস এবং ধর্মাচারণের প্রকৃত স্বরূপ জেনে নেয়া অত্যাবশ্যক। 

ডিসেম্বর মাস এলেই ক্রিসমাসের জন্য দিন গুনতে শুরু করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। তাদের জন্য এটাই তো স্বাভাবিক। তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই দিনটিকে একদম ভুলে যায় না। ধর্মীয় কারণ না হলেও অন্তত সরকারি ছুটির জন্য দিনটিকে মনে রাখে সবাই। বাংলাদেশে ক্রিসমাসকে সাধারণত ‘বড়দিন’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাহলে ঢাকায় ক্রিসমাস বা বড়দিন আসলে কীভাবে উদযাপন করা হয় ? এটির দুইটি দিক ধরা যায়। এর একটি হলো ধর্মীয় কারণে আমাদের দেশে খ্রিস্টানরা কীভাবে উদযাপন করে যিশু খ্রীস্টের জন্মদিন বা ক্রিসমাস? আর অন্যটি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বা অখ্রিস্টানরা কীভাবে উদযাপন করেন বড়দিন ? এই দুইটি দিক সামনে রেখেই ‘ঢাকায় বড়দিন’।

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের এই অঞ্চলে বড়দিন পালিত হয়ে আসছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বাংলায় ক্রিসমাস পালন করা শুরু হয়েছে আমেরিকারও আগে! মার্কিন মুল্লুকে ১৮৭০ সালে ক্রিসমাসের দিনটিতে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা শুরু হয়। আর এই অঞ্চলে প্রথম বড়দিন পালন করা হয় ১৬৬৮ সালে। আমাদের এই অঞ্চলে আগে থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও ইসলাম ধর্ম প্রচলিত ছিল। পরে সবার শেষে ১৬ শতকে পর্তুগিজদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে খ্রিস্টান ধর্ম এসেছে। এই অঞ্চলে ১৫৯৯ সালে প্রথম চার্চ তৈরি করেন ওরাই নামে এক পর্তুগিজ, যা বাংলাদেশের বৃহত্তর যশোর জেলার কালিগঞ্জে (সুন্দরবনের কাছে)। অবশ্য আরও পরে শুরু হয় প্রথম বড়দিন পালন।
বাংলায় প্রথম বড়দিন পালন নিয়ে একটি মজার ঘটনা প্রচলিত রয়েছে। তা হলো জব চার্ণক যাচ্ছিলেন হিজলির উদ্দেশ্যে। এই জব চার্ণকই কলকাতা নগরীর গোড়াপত্তন করেছিলেন। যাওয়ার পথে সুতানুটি গ্রামে আসার পর বড়দিনের কথা মনে পড়ে! পরে সেখানেই যাত্রাবিরতি করে বড়দিন পালন করেন। এটিকে আমাদের দেশে প্রথম বড়দিনের উৎসব পালন হিসেবে ধরা হয়। সেই থেকেই আমাদের দেশে বড়দিন পালিত হয়ে আসছে।
তবে এই অঞ্চলে খ্রিস্টধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ব্রিটিশরা। ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার (বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা) স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর বৃটিশরা এদেশের ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই আমাদের এই অঞ্চলে বড়দিনে ছুটি পালনের প্রচলন করা হয়।
বাংলাদেশে মাত্র ০.০৪ শতাংশ খ্রিস্টানের বসবাস। সংখ্যায় কম হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বড়দিন উদযাপনে মেতে ওঠে ক্রিস্টান ধর্মালম্বীরা। ঢাকাসহ সারাদেশে ৫০০টি গির্জায় এবার বড়দিন উদযাপিত হয়৷ ঢাকার কাকরাইলের খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় গির্জাটি অবস্থিত। এই গির্জার প্রধান ফাদার গ্যাব্রিয়েল।
প্রতিবছর বড়দিনে গির্জাগুলোতে এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তা প্রশ্নে যাজকদের বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়। বড় গির্জাগুলোতে স্থায়ী পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি গুপ্তহত্যা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। এই উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট বংলাদেশের খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা৷
বাংলাদেশে খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের একটি আলাদা রূপ রয়েছে। সব ধর্ম-মতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিক দিয়ে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রতিবেশি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতেও করতে পারেনি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে বড়দিন পালনে ছিল একটি ভিন্ন মাত্রা। এখানে ধর্মীয় রীতির সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান৷ ঢাকার অদূরে সাভারের প্রধান গির্জার পাল পুরোহিত কমল কোরাইয়ার বক্তব্যেই তা ফুটে ওঠে, ‘বাংলাদেশে বড়দিন উদযাপনের একটি নিজস্ব রীতি আছে৷ খ্রিষ্টানদের সার্বজনীন রীতির সঙ্গে মিলিয়ে এই নিজস্বতা বাংলাদেশে বড়দিনকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে৷’
রাজধানীর বড় বড় হোটেলগুলোতে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এসব স্থাপনায় নহরকাড়া আলোকসজ্জার পাশাপাশি সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি, রঙিন বাতি, বেলুন আর ফুল। এছাড়া প্রতিটি হোটেলের ক্রিসমাস পার্টিতে আছেন সান্তা ক্লস৷ এক্ষেত্রে ইংরেজদের সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব থাকলেও বাঙালিয়ানার একটা ছাপ দৃশ্যমান। যেমন- অন্যান্য দেশে পাইন গাছ দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি বানানো হয় আর আমাদের দেশে সাধারণত এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ঝাউগাছ। কমল কোরাইয়া বলেন, ‘ক্রিসমাস ট্রিসহ অন্যান্য আয়োজনের সঙ্গে এখানে যোগ হয়েছে কীর্তন৷ মা মেরির মূর্তি ছাড়াও আছে গোয়ালঘর, যেখানে যিশু খ্রিষ্ট জন্ম নিয়েছিলেন৷’

ক্রিসমাসের খাবারে বিশেষ কেকের পাশাপাশি বাঙালির আয়োজনে থাকে পিঠা-পুলি, পোলাও, মাংস ও বিরিয়ানী। সেই সাথে ক্রিসমাস ক্যারল বা ক্রিসমাসের গানের পাশাপাশি গাওয়া হয় ভাটিয়ালী গান, কীর্তন, এমনকি রবীন্দ্রসঙ্গীতও। এরকম একটি রবীন্দ্রসংঙ্গীত হলো- ‘আজি শুভ দিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই
বড়দিনে উপহার নিয়ে আসেন সান্তা ক্লস এমন একটি বিশ্বাস খ্রিস্টানদের মধ্যে রয়েছে। তাই বড়দিনের আগের রাত, মানে ‘ক্রিসমাস ইভ’ থেকেই প্রার্থনা শুরু হয় অনেত গির্জায়। কাকরাইলের প্রধান গির্জাসহ দেশের সব গির্জায় প্রার্থনা শুরু হয়। আর ঢাকার অদূরে সাভারের কিছু গির্জায় আগের রাতে হয় কীর্তন৷
বড়দিন মানেই কেনাকাটা আর উপহার দেওয়ার ধুম। ক্রিসমাস কার্ড বিতরণ করেন অনেকে। ঢাকার সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সবচেয়ে বড় ক্রিসমাস পার্টি৷ এই পার্টির প্রধান লক্ষ্য শিশুরা৷ বড়দিন সকাল থেকেই শিশুরা মাতিয়ে রাখে এই পার্টি৷ তবে সেই আনন্দে বাদ যান না বড়রাও৷
বাইবেলের তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেম থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণের বেথলেহেম শহরে জন্ম নেন যিশু। বড়দিন উদযাপনে ওই শহরের রাস্তাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়ে থাকে। সেখানে উৎসবের আমেজ মেতে উঠেছে নারী-পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষ। প্রতিবার ক্রিসমাস উদযাপনে শহরটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এসে থাকেন। চার্চ অব ন্যাটিভিটিতে ভিড় জমাচ্ছেন তীর্থযাত্রীরা।

RELATED NEWS
স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা
নির্বাচন কমিশন দেশের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান,বল্লেন ফখরুল
১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
যুক্তরাজ্য বিজয়ীর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল
মেট্রোরেল: যানজটের শহরের জন্য স্বস্তির বার্তা
এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদন :কেমন আছে রোহিঙ্গা নারীরা
ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে হাসিনা-মোদির মতৈক্য
১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো
হেফাজত মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী আর নেই
জাতির পিতার অসম্মান হতে দেবো না: সরকারি কর্মকর্তাদের অঙ্গীকার
দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতু