বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
আর.এন.এস২৪.নেট
বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে।
ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ শ্রেণীকক্ষ, আয়ারল্যান্ডের স্লিপওভার, যুক্তরাষ্ট্রের ডর্ম পার্টি বন্ধ সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলার পরও। অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো বন্ধ। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে খুলে দেয়ার পর সংক্রমণের বিস্তার এড়াতে শিক্ষার্থীরা নতুন নিয়ম, উত্তেজনা ও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলায় ফ্রান্স শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ ও ব্যবহারিক কক্ষে ফিরিয়ে নিতে চাইছে। এজন্য সর্বদা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ও সামাজিক দূরত্ব পালনকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানে উপচে পড়া ভিড় রয়েছে এবং সেখানকার শ্রেণীকক্ষগুলোয় সামাজিক দূরত্ব পালন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী পরিচালক ফ্রানজিস্কা হিমবার্গার বলেছেন, এ মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব পালন করা বেশ কঠিন, কারণ আমাদের অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের আর কোনো শিক্ষক নেই, অতিরিক্ত কোনো স্থান নেই। তাই আমাদের মূলত যথাসম্ভব সেরা পাঠদান করতে হবে।
ফ্রান্সজুড়ে কিছু শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অতিরিক্ত ভিড় ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধির সমালোচনা করছেন।
ইউরোপজুড়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে অনেকগুলো খুলে দেয়া হবে। সেগুলোতে সামাজিক দূরত্ব, নিয়মিত হাত ধোয়ার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষাকে প্রসারিত করা হয়েছে। ইতালি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষে পাঠদানকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কিছু ব্রিটিশ কলেজ সংক্রমণ শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে নিজস্ব টেস্টিং সাইট ও অ্যাপস তৈরি করেছে। ব্রিটেনের শীর্ষ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবিত নীতি অনুসরণ করে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন তাদের কেবল এক-চতুর্থাংশ ভবন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আয়ারল্যান্ড শিক্ষার্থীদের কলেজ আবাসনগুলোতে দর্শনার্থী ও রাতে অতিথি নিষিদ্ধ করেছে। ডাবলিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা বলেছেন, ভিড় এড়াতে তারা স্যানিটাইজিং স্টেশনগুলো কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন। সবগুলো ক্লাস যেন অনলাইনে না করতে হয় এজন্য গ্রিসের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত শিক্ষক ও ক্লিনারদের জন্য জরুরি অনুদানের দাবি করছে। এদিকে গত সপ্তাহে রেকর্ড সংক্রমণের কারণে ইসরায়েল দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় লকডাউন শুরু করেছে। লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার আগে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরের জন্য খুব বেশি সময় পায়নি।
দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া ভারতে কেবল একটি রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করার অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং সেটাও নভেম্বর মাসে গিয়ে।
গার্ডিয়ান