‘ভারতকে দেখুন, তারা কী নোংরা!’ : কেন হঠাৎ অবস্থান বদলালেন রিপাবলিক্যান এই নেতা?
অনলাইন ডেস্ক
দাবি করেন তিনি ভারতের বন্ধু। ভারত সফরের সময় তাঁর জন্য এলাহি আয়োজন করেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু দেশে ফিরে কোনও সুযোগ পেলেই ভারতের গাল-মন্দ করতে পিছপা হন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীতে ভারত বেশি ট্যারিফ নেয়, এই অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। এবার তিনি বললেন যে ভারত অত্যন্ত নোংরা একটি দেশ।
প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের চূড়ান্ত পর্বে ভারতকে তোপ দাগালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদির স্বচ্ছ ভারত অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি। বললেন, ভারতের বাতাস ‘নোংরা’। কেবল ভারতই নয়, চীন কিংবা রাশিয়ার বাতাসেও একই রকমের দূষণ।
জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
বাইডেনের সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। এছাড়াও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে
অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বসিয়ে আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যের পরিপন্থী আচরণেরও অভিযোগ
করেছেন তিনি।
ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন এমন এক সময় যখন মার্কিন বিদেশ সচিব পম্পেও ও প্রতিরক্ষা সচিব
এস্পার ভারত সফরে আসছেন।যদিও এটিই প্রথম নয়।
এর আগেও প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতে করোনায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে বাইডেনের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আপনি যখন সংখ্যা নিয়ে কথা বলছেন তাহলে বলি, আপনি জানেনই না চীনে কত মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনি জানেন না, ভারতে কতজন মারা গিয়েছেন। তারা কেউই সঠিক তথ্য দেয় না।’
ঘটনাচক্রে, দু’মাস আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নেমে মোদীর স্লোগান ধার করেছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচন চেয়ে ট্রাম্পের ‘আরও চার বছর’ (ফোর ইয়ার মোর) প্রচারের সূচনায় ‘ভিডিয়ো ক্যাম্পেনিং’-এ তুলে ধরা হয়েছিল ট্রাম্প-মোদীর দু’টি যৌথ জনসভার কিছু বাছাই করা ক্লিপিংস। প্রথমটি, গত সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের হিউস্টনে ‘হাউডি মোদী’ সভা। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়ের সামনে কূটনীতির বেড়া টপকে ‘অব কি বার ট্রাম্প সরকার’ স্লোগান দিয়েছিলেন মোদী। দ্বিতীয়টি, গুজরাতের আমদাবাদে ‘নমস্তে ট্রাম্প’। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দু’দিনের ভারত সফরে এসে সেখানে পুনর্নির্মিত মোতেরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম (সর্দার পটেল স্টেডিয়াম) উদ্বোধনে গিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতে মোদী দাবি করেছিলেন, তিনি এবং ট্রাম্প মিলে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবেন।
তবে কেন হঠাৎ অবস্থান বদলালেন রিপাবলিক্যান নেতা? রাজনীতির কারপবারিদের
একাংশ মনে করছেন, এ বার ২০ লক্ষ অনাবাসী ভারতীয় ভোটের বড় অংশই যে ডেমোক্র্যাটরা পেতে
চলেছে, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। বাইডেন তাঁর ‘রানিং মেট’ হিসেবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা
হ্যারিসকে বেছে এ বিষয়ে টেক্কা দিয়েছেন ট্রাম্পকে। ফলে কট্টরপন্থী শ্বেতাঙ্গ ভোটের
লক্ষ্যেই ট্রাম্পের এই ভোলবদল।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। বিষয়টি
নিয়ে কংগ্রেস নেতা
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য মোদীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালা। তাঁর টুইট, ‘মনে করুন কী ভাবে আমাদের শহিদ লৌহমানবী ইন্দিরা গাঁধী আমেরিকা সফরে গিয়ে (বাংলাদেশ যুদ্ধপর্বে) প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং বিদেশসচিব হেনরি কিসিঞ্জারকে তাঁদের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন’।
কপিল সিব্বল টুইট করেছেন। টুইটে তিনি ভারত সম্পর্কে ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বন্ধুত্বের ফল’ কিংবা ‘হাউডি মোদির পরিণাম’ বলে কটাক্ষ করেছেন।