সিনেট কমিটির মুখোমুখি হবেন তিন টেক জায়ান্টের সিইও
আর.এন.এস২৪.নেট
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্টের (সিডিএ)’ সেকশন ২৩০ নিয়ে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে অংশ নেবেন তিন টেক জায়ান্ট ফেসবুক, টুইটার ও গুগলের প্রধান নির্বাহীরা। ২৮ অক্টোবর সিনেট কমার্স কমিটির ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অংশ নেবেন ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবার্গ, টুইটার সিইও জ্যাক ডরসি ও গুগল সিইও সুন্দর পিচাই। খবর রয়টার্স।
সিডিএর সেকশন ২৩০-এর মাধ্যমে কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু আইনগত সুরক্ষা পেয়ে থাকে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো। এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ানির্ভর কোনো কম্পিউটার সেবার ক্ষেত্রে কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এমন কোনো কনটেন্ট বা তথ্যের প্রকাশকারী হিসেবে বিবেচিত হবে না, যা অন্য কোনো ইনফরমেশন কনটেন্ট প্রোভাইডার সরবরাহ করেছে।’ অর্থাৎ তৃতীয় পার্টির সরবরাহকৃত কোনো তথ্য বা কনটেন্টের দায় সেবাদানকারী কোম্পানির ওপর বর্তাবে না।
১৯৯৬ সালে আইনটি পাস করা হয়, যাকে ই-কমার্সের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহায়ক আইন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন বিচার বিভাগ সেই আইনেই সংশোধন আনতে চাইছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর জন্য আইনি সুরক্ষার পরিসর কিছুটা ছোট করতে চাইছে।
এ পরিবর্তনের বিষয়েই সিনেট কমার্স কমিটির ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তিন টেক জায়ান্টের প্রধান নির্বাহীরা স্বেচ্ছায় এ শুনানিতে অংশ নেবেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
মার্ক জাকারবার্গ ও জ্যাক ডরসির অংশগ্রহণের বিষয়টি ফেসবুক ও টুইটারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। গুগল সিইও সুন্দর পিচাই শুনানিতে যোগ দেবেন কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ওয়াকিবহাল এক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তিন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরাই এতে যোগ দেবেন। অর্থাৎ, সুন্দর পিচাইও শুনানিতে অংশ নেবেন।
একদিন আগেই গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, তিন প্রধান নির্বাহীকে সমন পাঠাবে সিনেট কমার্স কমিটি। তাদের সমন পাঠানোর পরিকল্পনায় কমিটির সবাই সম্মতি দিয়েছিলেন।
শুনানি প্রসঙ্গে শুক্রবার টুইটারে এক বার্তায় জ্যাক ডরসি লিখেছেন, ‘শুনানিটি অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, সেদিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আর এ জরুরি বিষয়টি হলো—আমরা কীভাবে নির্বাচনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করব।’
রয়টার্স জানিয়েছে, শুনানিতে সিডিএর ২৩০ ধারা সংশোধনের ব্যাপারে আলোচনার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় উঠে আসবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও মিডিয়া কনসোলিডেশন।
যে আইনকে ই-কমার্সের জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, সেই আইনটিই আজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণশীলদের কণ্ঠরোধ করছে। এর পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৩০ ধারা সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। তবে চলতি বছর মার্কিন কংগ্রেসের এ সংশোধনে অনুমোদন দেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
গত জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টি-ট্রাস্ট প্যানেলের সামনে সাক্ষ্য দেন গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল ও অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহীরা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক চর্চা কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করছে, সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে ওই প্যানেল। সোমবার ওই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।