হুয়াওয়েকে চিপ সরবরাহে আগ্রহী সনি ও কিওজিয়া
আর.এন.এস২৪.নেট
জাপানভিত্তিক সনি করপোরেশন এবং মেমোরি চিপ নির্মাতা কিওজিয়া হোল্ডিংস করপোরেশন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা হুয়াওয়ের কাছে চিপ সরবরাহ করতে চায়। এজন্য মার্কিন সরকারের কাছে লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান। গতকাল নিক্কেই বিজনেস ডেইলির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়। খবর রয়টার্স।
মার্কিন সরকারের অনুমোদন পেলে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ের কাছে নির্দিষ্ট কিছু চিপ সরবরাহ করতে পারবে ক্যামেরা সেন্সর নির্মাতা সনি এবং মেমোরি চিপ নির্মাতা কিওজিয়া। সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা ইন্টেল এরই মধ্যে হুয়াওয়ের কাছে নির্দিষ্ট কিছু চিপ সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছে।
শুধু সনি কিংবা কিওজিয়া নয়; এর আগে তাইওয়ানভিত্তিক চিপ ডিজাইনার মিডিয়াটেক ইনকরপোরেশন হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের কাছে চিপ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য মার্কিন সরকারের কাছে অনুমোদনও চায় প্রতিষ্ঠানটি। হুয়াওয়ের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিপ উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না, যা কার্যকর হয় গত মাসের মাঝামাঝি সময়। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই লবিং করে আসছিল মিডিয়াটেক, সনি ও কিওজিয়ার মতো কিছু প্রতিষ্ঠান।
হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে হুয়াওয়ের ব্যবসা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নিজেদের পণ্য উন্নয়নে মার্কিন ব্যবসা অংশীদারদের কাছ থেকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্য ক্রয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক জারীকৃত সীমাবদ্ধতার লক্ষ্য বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া হুয়াওয়েকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সেমিকন্ডাক্টর পেতে বাধা দেয়া হয়। একই সঙ্গে ২১টি দেশে হুয়াওয়ের ৩৮টি সহায়ক প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন সরকারের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জারীকৃত নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিপ উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠানই হুয়াওয়ের কাছে চিপ সরবরাহ করতে পারবে না। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে, যা সনি, কিওজিয়া, মিডিয়াটেক ও কোয়ালকমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ হুয়াওয়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শত শত কোটি ডলারের চিপ ক্রয় করে থাকে।
মিডিয়াটেকের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করেই তারা হুয়াওয়ের কাছে চিপ সরবরাহ করতে অনুমোদন চেয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়াওয়ের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে রয়েছে হুয়াওয়ে। সনি ও কিওজিয়ার উদ্যোগ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত মে মাসেই হুয়াওয়ের ওপর বিধিনিষেধ একধাপ কঠোর করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সে সীমাবদ্ধতার পরিধি আরো বাড়িয়েছে দেশটি।
হুয়াওয়ে ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা হুয়াওয়েসহ তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। মার্কিন থাবা থেকে হুয়াওয়েসহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে বাঁচাতে তারা কঠোর হতেও দ্বিধা করবে না।