ভ্যাকসিন কি আদৌ করোনা ভাইরাসকে নির্মূল করতে পারছে?
আর এন এস২৪.নেট
ফাইজার এবং মডার্না সংস্থা দুটি এই অক্টোবর মাসেই তাঁদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে কতটা কার্যকর হল ভ্যাকসিন সেই সকল রিপোর্ট প্রকাশ করবে।
ইউরোপে দ্বিতীয়বারের জন্য শুরু হয়েছে করোনা প্রকোপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখনও তথৈবচ অবস্থা। মাস্ক পরে সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু এখন ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
কবে সকলের জন্য উপলব্ধ হবে করোনা প্রতিরোধী টিকা? প্রথম সারির ভ্যাকসিনগুলি সবক’টিই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। ফাইজার এবং মডার্না এই মাসেই তাঁদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে কতটা কার্যকর হল ভ্যাকসিন সেই সকল রিপোর্ট প্রকাশ করবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সাধারন মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছতে সময় লাগবে আগামী বছরের মার্চ- এপ্রিল। যদিও মডার্না চাইছে এই বছরের শেষের দিকে তাঁদের ভ্যাকসিন বাজারে আনতে। ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে ফাইজার সংস্থাও এই মাসে তাঁদের ভ্যাকসিন বাজারে আনার জন্য মার্কিন সংস্থা এফডিএ-এর কাছে অনুমোদন চেয়েছে।
মডার্না করোনা ভ্যাকসিন:
এখনও পর্যন্ত যে রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে সেখানে মডার্নার mRNA-1273 ভ্যাকসিন ৫৫ বছরের উর্ধ্বে যাঁদের বয়স তাঁদের দেহে শক্তিশালী রোগ-প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। এই ভ্যাকসিনটি মূলত ব্লাডেই ইনজেক্ট করা হয়। দেখা গিয়েছে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সারস-কোভ ২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে চটজলদি অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।
ফাইজার করোনা ভ্যাকসিন:
জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে করোনা টিকা প্রস্তুত করছে ফাইজার। এই ভ্যাকসিনটি আদতে modRNA প্রকৃতির। যার বৈজ্ঞানিক নাম- নিউক্লিওসাইড মডিফায়েড মেসেঞ্জার আরএনএ। অর্থাৎ কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সংস্থা। যেহেতু ভাইরাসটি আরএনএ প্রকৃতির তাই মডিফায়েড মেসেঞ্জার আরএনএ দিয়েই ভাইরাল আরএনএ-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে এই ভ্যাকসিন। এখনও পর্যন্ত মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এই ভ্যাকসিন। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে এই ভ্যাকসিন। মূলত দুটি টিকার একসঙ্গেই ট্রায়াল চলছে। একটি- BNT162b1 এবং অপরটি- BNT162b2। সফলতায় দ্বিতীয়টির হার সামান্য হলেও বেশি। অন্তত রিপোর্ট তাই বলছে।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন:
সম্প্রতি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় বন্ধ হয়েছিল এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল। ভারতেও স্থগিত করা হয়েছিল ক্লিনিকাল ট্রায়াল। তবে ফের ছাড়পত্র পেয়েছে এই টিকা। জানা গিয়েছে চন্ডিগরে যাঁদের দেহে এই টিকার ট্রায়াল চলছিল তাঁদের সকলের দেহেই রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এই ভ্যাকসিন। দুটি টিকা উৎপাদন করেছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। একটি চ্যাডক্স (ChAdOx) এবং আরেকটি ভারতের জন্য কোভিশিল্ড (Covishield)।