যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটাতে দেয়া ‘বোকামি’ ও ‘বিপজ্জনক’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কথিত ‘হার্ড-ইমিউনিটি’ (গণ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা) অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে
করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটাতে দেয়া ‘বোকামি’ ও ‘বিপজ্জনক’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির
শীর্ষ মহামারি রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি। তিনি বলেন, এমনটা হতে দিলে বহু মানুষ
বিনা কারণে মারা যাবে। এ খবর দিয়েছে সিএনবিসি।
খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইয়াহু নিউজ ফাউচির কাছে যুক্তরাষ্ট্রে হার্ড-ইমিউনিটি অর্জনের
জন্য কার্যকরী একটি কৌশল সম্পর্কে জানতে চায়। উত্তরে ফাউচি বলেন, যাচ্ছেতাইভাবে সংক্রমণ
ঘটতে দিয়ে হার্ড-ইমিউনিটি অর্জন করতে চাওয়াটা বোকামি। তিনি বলেন, মহামারিবিদ্যা সম্পর্কে
অল্পবিস্তর কিছু জানেন, এমন যে কেউই আপনাকে বলবেন যে, এটা হবে বোকামি ও অত্যন্ত বিপজ্জনক।
প্রসঙ্গত, যখন কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জনসংখ্যার মধ্যে কোনো রোগের বিরুদ্ধে
প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, যার ফলে ওই রোগের বিস্তারের আপাত সম্ভাবনা থাকে না ও বাকিরা
রোগটি থেকে সুরক্ষিত থাকে, তখন হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হয়।
এটা স্বাভাবিক সংক্রমণের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। অর্থাৎ, যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ
রোগটিতে আক্রান্ত হয় ও তাদের মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তখনই
হার্ড ইমিউনিটি চলে আসে। আবার টিকাদানের মাধ্যমেও হার্ড-ইমিউনিটি অর্জন সম্ভব।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর ধারণা হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য
জনসংখ্যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশকে টিকা দিতে হবে বা তাদের মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি
গড়ে উঠতে হবে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ
মার্কিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
তবে এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও গত সোমবার হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা ‘গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লেয়ারেশন’
নামের একটি অনলাইন আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন যারা হার্ড-ইমিউনিটিকে সমর্থন করে। যদিও
এর আগে দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার স্পষ্ট করে বলেছিলেন,
হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা যুক্তরাষ্ট্রের করোনা মোকাবিলা কৌশলের অংশ নয়।
দ্য ব্যারিংটন ডিক্লেয়ারেশন বলছে, জনসংখ্যার মধ্যে যাদের রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার
ঝুঁকি কম, তাদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দেয়া যায়। তবে যারা গুরুতর অসুস্থ হওয়ার
ঝুঁকিতে আছেন, তাদেরকে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের আগ পর্যন্ত নার্সিং হোম বা এই ধরণের
কোনো স্থাপনায় রাখা যেতে পারে।
কিন্তু ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিসের প্রধান ফাউচি
বলছেন, এমনটা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ
করোনার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় ভোগার ঝুঁকিতে আছেন। এর মধ্যে বয়স্ক, স্থূল ও জটিল রোগে
ভোগা মানুষও আছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে আলাদা আশ্রয়স্থলে রাখা সম্ভব নয় বলেই তার
যুক্তি। তিনি আরও বলেন, রোগ ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যত দিনে হার্ড-ইমিউনিটি
অর্জিত হবে ততদিনে এ রোগ বহু মানুষকে মেরে ফেলবে, যারা হয়তো বেঁচে যেতে পারতেন।