গ্রাম ও উপকূলীয় এলাকায় বাড়ি খুঁজছেন ব্রিটেনের ক্রেতারা
অনলাইন ডেস্ক
সচরাচর মানুষজন বড় শহরেই বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস মহামারী মানুষের এ স্বপ্ন আর পরিকল্পনাকে অনেকটাই পাল্টে দিচ্ছে। ব্রিটেনে বড় ও জনবহুল শহর ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজছে বহু মানুষ, তারা বাড়ি কিনতে চাইছে অপেক্ষাকৃত গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে। একথা জানিয়েছে প্রপার্টি-বিষয়ক ওয়েবসাইট রাইটমুভ। খবর বিবিসি।
যেসব ছোট শহর ও গ্রামে জনসংখ্যা ১১ হাজারেরও কম, সেসব শহরে বাড়ি খোঁজার হার প্রায় দ্বিগুণ। ওয়েবসাইটটির মতে, মহামারীর সময় লকডাউনে মানুষজন আরো বেশি জায়গা আর স্বস্তি পেতে চাইছে, তাই এখন সমুদ্র-তীরবর্তী রিসোর্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি আর দামও অনেক বেশি।
রাইটমুভের টিম ব্যানিস্টার বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্থান পরিবর্তনের পরিবর্তে এখন গ্রামে বসতি স্থাপনের আকাঙ্ক্ষাটি প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। গত মে মাসে ইংল্যান্ডে যখন বাজার পুনরায় খুলতে শুরু করে তখন আমরা বিস্ময়ের সঙ্গেই ভাবছিলাম যে ছোট শহর ও গ্রামে বসতি স্থাপনের এ আকাঙ্ক্ষা আসলে কতটা স্থায়ী হয়।’
এ প্রবণতার দুটি মূল কারণ দেখছেন টিম ব্যানিস্টার। কিছু ক্রেতা এ কারণেই গ্রামের দিকে ঝুঁকছেন যেন অন্যদের সঙ্গে সাপ্তাহিক যোগাযোগের পরিমাণটা অনেক কমিয়ে আনা যায়, আবার অন্যরা কিছুদিনের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সে কারণে বাড়ির বহিরাঙ্গনে আরো বেশি জায়গা চাইছিলেন।
যারা এখন তড়িঘড়ি করে গ্রাম কিংবা ছোট শহরে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন, তাদের সতর্ক করে দিয়ে সম্পত্তি-বিষয়ক এজেন্ট জানাচ্ছেন, আগামী বছর বাড়ির দাম অনেক কমতে পারে। ইউকে রেসিডেন্সিয়াল মার্কেট সার্ভের (আরআইসিএস) সর্বশেষ সমীক্ষায় আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, বাড়ির দাম আগামী ১২ মাসের মধ্যেই নেতিবাচক অঞ্চলে নেমে আসতে পারে।
দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সার্ভেয়ারসের প্রধান অর্থনীতিবিদ সাইমন রুবিনসন বলেন, ‘মহামারীর কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে সর্বত্র, কেননা এর ফলে যেসব মানুষ এ খাতে বিনিয়োগ করার চিন্তা করছিল কিংবা বাড়ি কেনার কথা ভাবছিল, ২০২১ সালে গিয়ে তারা সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে।’
আরআইসিএস আগামী বছর বাড়ির দরপতনের সতর্কবার্তা দিলেও তারাই জানাচ্ছে, গত সেপ্টেম্বরে বাড়ি বিক্রির হার অনেক বেশি ছিল। হ্যালিফ্যাক্স এ সপ্তাহের শুরুর দিকে জানায়, সেপ্টেম্বরে বাড়ির দাম ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ফলে যুক্তরাজ্যে প্রতিটি বাড়ির গড় মূল্য পৌঁছে সিকি মিলিয়নের কাছাকাছি—২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭০ পাউন্ড।
রাইটমুভের মতে, ইংল্যান্ডে নয়টি এলাকার সম্পত্তি খোঁজার হার দ্বিগুণ ছিল, যেসব এলাকার জনসংখ্যা ১১ হাজারের নিচে। বাড়ি সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে সারের লাইটওয়াটারে, গত বছরের তুলনায় এই খোঁজার হার ছিল ১৩০ শতাংশেরও বেশি!
লাইটওয়াটার গ্রামের জনসংখ্যা সাত হাজারেরও কম এবং এখানে বাড়ির হরেক দাম। একটি ফ্ল্যাটের দাম যেমন ১ লাখ ৫৫ হাজার পাউন্ড, তেমনি পাঁচ বেডের বাড়ির দাম ৩৬ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত।
আরো কিছু ছোট গ্রাম ও শহরে বাড়ি খোঁজার হার বেশি ছিল। সমারসেটের ব্রাটনে যেমন হারটা বেড়েছে ১২৮ শতাংশ ও কটসওয়ার্ল্ডের পিচিং ক্যাম্পডেনে বেড়েছে ১১১ শতাংশ। এছাড়া অন্য যেসব জায়গার চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বার্কশায়ায়ের হাংফোর্ড, ডরসেটের স্টারমিনস্টার নিউটন, আইলসফোর্ড, শাফলকের হেলসওয়ার্থ, ও ডেভনের ডার্টমাউথ।
বন্দরনগরী ডেভনের ডার্টমাউথে বাড়ি বিক্রির হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৭৯ শতাংশেরও বেশি। কর্নওয়ালের সেন্ট ইভসে এ হারটা ১৭০ শতাংশ আর এসেক্সের বাকহার্স্টট হিলে তা ছাড়িয়ে যায় ১৬৪ শতাংশ, ক্লিভল্যান্ডের ইয়ার্মে ১৬৩ শতাংশ ও অক্সফোর্ডশায়ারের চিপিং নর্টনে ১৫৬ শতাংশ।