যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হওয়ার পূর্বাভাস
আর এন এস২৪.নেট
ব্রিটেনের অর্থনীতি তিন মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে গিয়ে ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দেয়া দল ইওয়াই আইটেম ক্লাব। তবে দলটি জানিয়েছে, ১৭ শতাংশ বাড়লেও আগামী মাসগুলোয় প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে। নভেল করোনাভাইরাস লকডাউন বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করায় ক্রেতারা এ সময়ে কেনাকাটায় উৎসাহিত হয়েছিলেন। খবর বিবিসি।
আইটেম ক্লাবের অর্থনীতিবিদদের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটা নিত্যদিনের পর্যবেক্ষণ। তবে তারা সতর্ক করেছে, ২০২০-এর বাকি অংশের জন্য প্রবৃদ্ধি অনেক ধীর হবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী শেষ তিন মাসে ১ শতাংশ কিংবা তারও কম প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
ইওয়াই আইটেম ক্লাবের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হাওয়ার্ড আর্চার বলেন, এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ভালো করেছে। গ্রাহক ব্যয় দৃঢ়ভাবে ফিরে এসেছে এবং আবাসন খাতের ক্রিয়াকলাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক প্রত্যাহার অনেক অবদান রেখেছে। বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে সম্ভবত ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ এ সময়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা ছিল।
বাণিজ্য চুক্তির ঝুঁকি
যদিও ফোরলগ প্রোগ্রামের মতো সরকারি সহায়তাগুলো ‘প্রচুর প্রয়োজনীয় সমর্থন’ সরবরাহ করেছে। তবে প্রবৃদ্ধি এখন কমতে শুরু করবে। শ্রমিকরা তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ফোরলগ স্কিম শেষে উচ্চ বেকারত্ব ও মন্থর প্রবৃদ্ধির বিষয়গুলো দৃশ্যমান হবে। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মহামারীর আগের মতো অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ইওয়াই আইটেম ক্লাব গত জুলাইয়েও ২০২৪ সালের শেষ দিকে এমনটা হওয়ার আশা করেনি।
গত সপ্তাহে জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের অফিশিয়াল পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইট আউট টু হেল্প আউট স্কিমের অধীনে রেস্তোরাঁগুলোকে সহায়তা দেয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আগস্টেও পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছিল। অর্থনীতিটি মাসে ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এটা অর্থনীতিবিদদের অনুমানের চেয়ে ছোট ছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, যেকোনো অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের মতোই এমন কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে, যা পুনরুদ্ধারের গতি কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে দিতে পারে। নভেল করোনাভাইরাসের একটি কার্যকর ভ্যাকসিন সম্ভবত অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তবে এক্ষেত্রে চমকপ্রদ বৃদ্ধির চেয়ে প্রবৃদ্ধির হুমকি বেশি থাকবে। যে কারণগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেনে ধরতে পারে, তার মধ্যে গ্রাহক ব্যয় হ্রাস, আরো লকডাউন ব্যবস্থা, যুক্তরাজ্য ও ইইউয়ের মধ্যে ধীর ব্রেক্সিট আলোচনা ও বেকারত্বের বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ পূর্বাভাসে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি যদি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের বিধিনিষেধ এড়ানো গেলেও ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা কেনাকাটার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে সতর্ক থাকতে পারেন।
ইওয়াই আইটেম ক্লাবের অনুমান, বছরের শেষ দিকে ইইউয়ের সঙ্গে একটি সহজ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। এ চুক্তি না হলে দেশটিতে ২০২১ সালে ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে এবং ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ থেকে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যাবে।