বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে।
আর এন এস২৪.নেট
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভ নতুন এ উচ্চতায় পৌঁছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের ১০ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। বাংলাদেশী মুদ্রায় বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।
নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম থেকেই দেশের আমদানি খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের আমদানি ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত আমদানি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরেনি।
আমদানি খাতের বড় বিপর্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফনের পাশাপাশি রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোয় তরতর করে বাড়তে থাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত চার মাসে আটবার রেকর্ড করেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ সূচক।
গত ৩ জুন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ৩০ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। তিন সপ্তাহ পর গত ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। গত প্রায় এক মাস রিজার্ভের পরিমাণ এ বৃত্তেই ছিল। আর গতকাল তা ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।
করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারীতে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশী। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের বড় অংশই কর্মস্থলে ফিরে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের নতুন ভিসা বন্ধ। ছুটিতে দেশে ফেরা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশীর ভিসার মেয়াদও প্রায় শেষ।
ক্ষতিগ্রস্ত এ প্রবাসীরা কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছেন। বিশ্বের অনেক দেশে এখনো লকডাউনে গৃহবন্দি সময় পার করছেন প্রবাসীরা। তার পরও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশের রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত আছে চলতি মাসেও। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ভর করেই ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে রিজার্ভ।
রেমিট্যান্সের বড় প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুন থেকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ
দেশে পাঠাচ্ছেন। দেশের রফতানি খাতও করোনা সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শীর্ষ দুটি খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ দাতা সংস্থাগুলোর ঋণসহায়তা বাড়ছে। গত কয়েক মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন করে ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। আমাদের রিজার্ভ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তা অনন্য।