১৯০ কোটি ডলার জরিমানার মুখে সিসকো
অনলাইন ডেস্ক
সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পেটেন্ট লঙ্ঘনের একটি মামলায় সিসকো সিস্টেমসকে ১৯০ কোটি ডলার জরিমানা করেছেন এক মার্কিন বিচারক। গত সোমবার দেয়া রায়ে পেটেন্ট অমান্য করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার সেন্ট্রিপেটাল নেটওয়ার্কসকে এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রিপেটাল নেটওয়ার্কসের সাইবার নিরাপত্তা পেটেন্ট নকলের অভিযোগ ছিল সিসকোর বিরুদ্ধে। নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ভার্জিনিয়ার জেলা বিচারক হেনরি মরগান বলেন, সেন্ট্রিপেটাল নেটওয়ার্কসের মোট চারটি পেটেন্ট অমান্য করেছে সিসকো। অভিযোগ করা হলেও পঞ্চম আরেকটি পেটেন্ট অমান্য করার কোনো প্রমাণ পাননি আদালত। সিসকোর উপস্থাপিত নথিপত্র এবং নিজস্ব কারিগরি নথিতে অসংগতির কথা উল্লেখ করে ১৬৭ পৃষ্ঠার রায়ে হেনরি মরগান বলেন, পেটেন্ট লঙ্ঘনের মামলাটি সামান্য কিছু প্রযুক্তির সাদৃশ্য থাকার মতো কোনো ঘটনা ছিল না। অর্থাৎ নিজস্ব পণ্যে অনুমতি না নিয়ে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের পেটেন্ট করা প্রযুক্তি হুবহু ব্যবহার করেছে সিসকো। জরিমানার ১৯০ কোটি ডলারের মধ্যে মূল ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৫ দশমিক ৫৮ কোটি ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিসকোর ইচ্ছাকৃত এবং গুরুতর অপরাধের কারণে আড়াই গুণ বেশি জরিমানা করেছেন বিচারক।
বিচারক হেনরি মরগান বলেন, চারটি পেটেন্টের ক্ষেত্রে বিচারে কোনো যৌক্তিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি সিসকো।
বিবৃতিতে সিসকো জানায়, আদালতের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পেটেন্ট লঙ্ঘন করা হয়নি। পেটেন্ট অমান্য না করার যথাযথ প্রমাণ তারা আদালতকে সরবরাহ করেছে। রায়ের বিষয়ে মার্কিন ফেডারেল সার্কিট কোর্টে আপিল করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিসকো।
সিসকো সিস্টেমস ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজারে প্রবেশ করেছে নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। মাইক্রোসফট ও ফেসবুকের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টারের জন্য সুইচ চিপ সরবরাহ করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক থাকায় চিপের বাণিজ্য দ্রুতই সম্প্র্রসারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিতে পেটেন্ট মামলায় রায় বিপক্ষে যাওয়া ব্যবসায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছরের শেষদিকে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসায় প্রবেশের কথা প্রথম জানায় সিসকো। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেভিত্তিক এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের তৈরি চিপ বর্তমানকালের সবচেয়ে দ্রুতগতির বলে দাবি করছে। প্রতিষ্ঠানটির সিসকো সিলিকন ১ নামে সুইচ চিপ মাইক্রোসফট ও ফেসবুক তাদের ডাটা সেন্টারে ব্যবহার করছে বলে জানানো হয়েছে।
সিসকোর নতুন চিপ অন্যান্য ব্র্যান্ডের সরঞ্জামেও ব্যবহার করা যাবে। যেখানে আগে সিসকোর নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামে অন্য কোনো চিপ ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেত না। অধিকাংশ বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা সিসকোর ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি। তবে স্ট্যান্ডালন চিপ তৈরির মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবসায়িক নীতিতে এ পরিবর্তন রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ফলে ইন্টেল, ব্রডকমের মতো প্রতিষ্ঠান তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধের জেরে এখন চাপে রয়েছে সিসকো। চীন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ইনকরপোরেশনসহ সিসকো সিস্টেমস এবং কোয়ালকম ইনকরপোরেশনের মতো অন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিশ্বস্ত তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুধু অবিশ্বস্ত তালিকাভুক্ত করা নয়; এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক অন্যায্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাব দেয়ার অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন, যা সিসকোর ভবিষ্যৎ ব্যবসা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।