মন্দার আশঙ্কার মধ্যেই বৈঠকে বসছে বিশ্ব অর্থনীতির অভিভাবকরা
আর এন এস২৪.নেট
মহামন্দার পরে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মন্দার শঙ্কার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন বিশ্ব অর্থনীতির অভিভাবকরা। জি২০ভুক্ত দেশগুলোকে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ঋণ পরিশোধ স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক তাদের বার্ষিক বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।
আইএমএফ গত জুনে প্রকাশিত ২০২০ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে গত মাসে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন আনলেও সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রলম্বিত ও অসম হবে।
বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোকে উৎসাহ দিয়ে আসছে, যদিও সংস্থাটি সতর্ক করছে যে জিডিপির শতাংশ হিসেবে ঋণ প্রথমবারের মতো প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়বে।
আইএমএফের কর্মকর্তারা চলতি মাসের প্রথম দিকে শর্ত ও বাধ্যবাধকতা পূরণে হিমশিম খাওয়া দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠনের সংস্কার প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিওফ্রে ওকামতোর মতে, এবারের বৈঠকের প্রধান প্রতিপাদ্য হবে ঋণ নাজুকতা।
ডেট সার্ভিস সাসপেনশন ইনিশিয়েটিভের অধীনে গত এপ্রিলে অবশ্য জি২০ভুক্ত দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোর কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মওকুফে সম্মত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এটি যথেষ্ট নয় এবং বড় অধোগতি ঠেকাতে উন্নত দেশগুলোকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।
দরিদ্র দেশগুলোয় অর্থের জোগান বাড়াতে ধনী দেশগুলো থেকে স্পেশাল ড্রইং রাইটস (এসডিআর) নামে পরিচিত বিদ্যমান সঞ্চিতি সম্পদ কীভাবে হস্তান্তর করা যায়, তার উপায় সন্ধানেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কাজ করছে। এসডিআরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ তহবিল সৃষ্টির একটি প্রস্তাব গত এপ্রিলে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্থায়নকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দেয়, যেটি পরিকল্পনাটিকে অকার্যকর হিসেবে সমালোচনা করেছে।
আইএমএফের বৈঠকে ভার্চুয়াল সাইডলাইনে আয়োজিত ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সের এক অনুষ্ঠানে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার যথাক্রমে ফেডারেল রিজার্ভ পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিচার্ড ক্ল্যারিডা এবং রান্ডাল কোয়ারলেসের বক্তৃতা দেয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলাকপাত করা হবে বলে জানা যায়।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার প্রকাশিতব্য বাণিজ্য তথ্যে চীনের রফতানি পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বৃহস্পতিবারের মূল্যস্ফীতি তথ্যে দেশে দাম প্রবৃদ্ধিতে সামান্য পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সপ্তাহজুড়ে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিসংক্রান্ত বৈঠকে বসার কথাও রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অস্ট্রেলিয়ার গভর্নরের আগামী বৃহস্পতিবারের ভাষণ থেকে দেশটি আদৌ প্রণোদনা বাড়াচ্ছে কিনা, তার সংকেত পাওয়া যাবে এবং একই দিনে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেশটির সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থানের চিত্রও মিলবে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের তথ্যও প্রকাশ পাবে। এক্ষেত্রে যেকোনো নিষ্প্রভ চিত্র ব্যাংক অব ইংল্যাল্ড থেকে আরো প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টিকে অনিবার্য করে তুলবে। একইভাবে সুইডেনে কর্মহীনতার প্রবণতার অবনমন ঘটছে কিনা, তার তথ্য প্রকাশ করবে। পূর্ব ইউরোপে পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, রোমানিয়া ও সার্বিয়া মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করবে। পুরো ইউরোপ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনেকে ভার্চুয়ালিও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে আজ (সোমবারে) প্রকাশিত তথ্যে সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে চলা তুরস্কের চলতি হিসাব ঘাটতির বিষয়টিরই প্রতিফলন ঘটবে। অন্যদিকে বুধবারে প্রকাশিতব্য ঘানার মূল্যস্ফীতি তথ্যে দাম প্রবৃদ্ধি কমার বিষয়টি দেখা যেতে পারে। নাইজেরিয়া ও উগান্ডার মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিও চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্যে জানা যাবে।
বৈশ্বিক সংস্থা দুটির চলতি সপ্তাহের বৈঠকগুলোয় মেক্সিকো, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ লাতিন আমেরিকার প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্রের পাশাপাশি সংকট উত্তরণে কার্যকর কিছু পরামর্শও উঠে আসবে আশা করা হচ্ছে।