পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে আপনাকেই
আর.এন.এস২৪.নেট
আমাদের চেনা পৃথিবীর চেহারাটা কী দ্রুত বদলে যাচ্ছে বুঝতে পারছেন? ঘরে
বসে অফিসের কাজটা আমরা তাও ম্যানেজ করে ফেলছি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভিডিয়ো কল বা সোশাল
মিডিয়ায় যোগাযোগ থাকছে নিয়মিত। দূরে থাকা মা-বাবার কাছে ওষুধপত্র বা খাবার পৌঁছে দেওয়ার
কাজটাও অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে গিয়েছে হোম ডেলিভারি অ্যাপের সৌজন্যে। কিন্তু আমাদের চেয়ে
অনেক বেশি সমস্যায় আছে শিশুরা। তাদের খেলাধুলো বন্ধ, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না
দিনের পর দিন। গ্যাজেটে হাত দিলেই বকুনি খেতে হত ক'দিন আগে পর্যন্ত, এখন সেই গ্যাজেটেই
চলছে লেখাপড়া। বইখাতা এখনও অনেকেরই হাতে পৌঁছোয়নি -- স্কুলের পাঠানো পিডিএফের ভরসায়
ক্লাস নিচ্ছেন জীবনে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে বসা শিক্ষক। সেই ক্লাসের পড়া শুনে, বুঝে
হোমওয়ার্ক করতে হচ্ছে বাচ্চাকে। এই পরিস্থিতিতে অসুবিধে হওয়া স্বাভাবিক – সন্তানকে সাহায্য
করতে হবে আপনাকেই। তবে তার আগে নিজে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।
গোটা দুনিয়া টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশের সামনেও নানা সমস্যা
আছে, তার মধ্যে অনলাইন ক্লাস একেবারে নতুন একটা বিষয়। তাই প্রথম দিকে কিছু অসুবিধে
হবেই। ধৈর্য ধরুন একটু, অপেক্ষা করুন। বাচ্চারা সব কিছুই তাড়াতাড়ি শেখে, এই পরিস্থিতির
সঙ্গেও তারা আপনার চেয়ে আগে মানিয়ে নেবে। আপনি স্রেফ অসুবিধে হলে তার পাশে থাকুন, ভরসা
জোগান। প্রথম দিন থেকেই খুঁত বাছবেন না শিক্ষকের, তাঁকেও মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন। কিছুদিনের
মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক আবার আগের জায়গাতেই ফিরে যাবে।
এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কারও কারও একটু বেশি সময় লাগতেই পারে। হয়তো আপনার
সন্তান আগে যতটা সাবলীল ছিল, নতুন এই পঠন-পাঠনের সঙ্গে তত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে
না। তাতে ঘাবড়ে যাবেন না। সময় দিন। এটা একটা বিরাট ট্রানজিশন -- সবার মানসিক গঠন সমান
হয় না।
বাচ্চার খেলাধুলোর সময় বরাদ্দ রাখুন অবশ্যই। অনলাইন ক্লাস আর ভিডিয়ো গেমের ভরসায় দিন
কাটাতে হলে কিন্তু সুস্থতার সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে, বাড়ির ছাদে বা লনে খেলাধুলো করা
উচিত। শারীরিক শ্রমের কোনও বিকল্প নেই।
সন্তানের সঙ্গে খানিকক্ষণ বই পড়ুন একসঙ্গে বসে। দরকারে
গল্প পড়ে শোনান। রোজ ছোটোখাটো কিছু একটা লিখতে বলুন। কারব অডিয়ো-ভিস্যুয়াল মাধ্যমটাই
এত শক্তিশালী যে বাচ্চাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, বড়োদেরই নেশা লেগে যায়!
করোনাভাইরাসের কারণে জীবন থমকে গেলেও শেখার সুযোগ ফুরিয়ে যায়নি কখনই। তবে থাকতে হবে শেখার আগ্রহ, জ্ঞানের ক্ষুধা, সময়কে কাজে লাগানোর স্পৃহা। এই সময়ে আপনার সন্তান যাতে সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তার জন্য আপনাকেই সচেষ্ট হতে হবে। পুরোনো অভ্যেসগুলো বজায় রাখার দায়টা আপনাকেই নিতে হবে।