করোনাভাইরাস মহামারীতে ইউরোপে সাইকেল বিপ্লব
আর.এন.এস২৪.নেট
করোনাভাইরাস মহামারী ইউরোপে যেন সাইকেল বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। বুখারেস্ট থেকে ব্রাসেলস এবং লিসবন থেকে লিওঁ পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলো মহামারীর এ সময়ে সাইকেল চালানোর সুবিধা তৈরিতে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করেছে। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে সাইকেল চালানোর জন্য অবকাঠামোতে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার নতুন বাইক লেন করা হয়েছে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপীয় সাইক্লিং ফেডারেশনের জিল ওয়ারেন বলেন, সাইকেল চালানোর সুযোগের দাবির ক্ষেত্রে একটি বড় বিজয় হয়েছে। মহামারীর এ সময়ে সাইকেল চালানো যে শহর ও আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে দিতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিলানের নগর পরিকল্পনা, সবুজ অঞ্চল ও আবার ঘুরে বেড়ানোর উপায় হিসেবে সাইকেল চালানোর অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রথম শহরগুলোর একটি। শহরটিতে ৩৫ কিলোমিটার নতুন সাইকেল লেন করা হয়েছে, যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো সাময়িক। মারান বলেন, সাইকেল চালানো বেশির ভাগ মানুষ আগে গণপরিবহন ব্যবহার করত। মহামারীর আগে এখানে এক হাজার মানুষ সাইকেল চালাত, এখন সে সংখ্যা সাত হাজার। তবে অনেকেই বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় এ পরিবর্তন খুবই সামান্য। পরিবেশবিদ আন্না জার্মোটা বলেন, কয়েকটি লেন তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে তা প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে তুলনা করলে সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির মতো।
এ অঞ্চলের সরকার সাইকেল চালানোর রাস্তা তৈরিতে ১১৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। পাশাপাশি জনগণকে যানবাহন ও গাড়ি থেকে দূরে রাখতে নতুন বাইক ও ই-স্কুটার কিনতে সরকার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নাগরিকদের সাইকেল চালানোয় উৎসাহিত করতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ডেভিড বেলইয়ার্ড বলেন, এটা একটি বিপ্লবের মতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে প্যারিসের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক রু ডে রিভোলিকে ঘিরে। এ বিখ্যাত সড়ক প্যারিসজুড়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত। এ সড়কের কিছু অংশ এখন পুরোপুরি গাড়িমুক্ত। শহরটিতে সাইকেল চালানো গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ফরাসি সরকার সাইকেল মেরামতের জন্য ৫০ পাউন্ড ভর্তুকি দিচ্ছে।
এদিকে ব্রাসেলসের উত্তরে শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর কয়েকটিতে ৪০ কিলোমিটার সাইকেল লেন স্থাপন করা হয়েছে। ইউরোপীয় সাইক্লিং ফেডারেশনের জিল ওয়ারেন বলেন, পুরাতন জীবনযাত্রা আর সম্ভব হবে কিনা—আশঙ্কা থেকে অনেক শহর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এক্ষেত্রে সাইকেল চালানো আরো বেশি মানুষের চলাচলের সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।
বিবিসি