সেন্ট নিকোলাস” থেকে “স্যান্টা ক্লজ”
সম্পাদনা:জিয়াউদ্দীন চৌ:( জেড সেলিম)
যিশু খৃস্টের মৃত্যুর ২৮০ বছর পরে রোমের মাইরাতে জন্ম হয় সেইন্ট নিকোলাসের। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানো নিকোলাস জীবনের একমাত্র ভরসা ও বিশ্বাস রেখেছিলেন।বড়দিনে গোটা বিশ্বের শিশুদের নাকি উপহার দিয়ে বেড়ান সান্টা ক্লজ। তাঁর বিশাল ঝুলির মধ্যে সবার জন্য কিছু না কিছু থাকে। ছোটবেলায় সরল মনে বিশ্বাস করা এই কাহিনি যে নিছকই গল্পকথা তা বড় হতে না হতেই বোঝা যায়। কিন্তু কে এই সান্টা ক্লজ? কেনই বা শিশুদের উপহার দেন তিনি? আর তাঁর পোশাকের রং লাল কেন? এই সব প্রশ্ন বড়বেলাতেও পিছু ছাড়ে না। ক্রিসমাসের মৌসুম এলেই পশ্চিমা বিশ্বে স্যান্টা ক্লজের এমন প্রতিকৃতি দেখা যায় প্রায় সবখানে।পশ্চিমা লোক-কাহিনীতে ক্রিসমাসে স্যান্টা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন। কিন্তু আমেরিকার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক শহর যার নাম 'সান্টা ক্লজ টাউন'। সেখানে বছরে অন্তত ২০ হাজার চিঠি আসে সান্টা ক্লজের নামে।
সেইন্ট নিকোলাস
যিশু খৃস্টের মৃত্যুর ২৮০ বছর পরে রোমের মাইরাতে জন্ম হয় সেইন্ট নিকোলাসের। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৫ মার্চ, পূর্ব এশিয়ার মায়রা শহরে জন্ম সেন্ট নিকোলাসের। এখন যা তুরস্কে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানো নিকোলাস জীবনের একমাত্র ভরসা ও বিশ্বাস রেখেছিলেন যিশু খৃস্টের ওপরে। নিজে ছোটবেলায় অনাথ হয়ে যাওয়ায় গরীব শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন তিনি। সেই কারণের গরীব শিশুদের উপহার দিয়ে বেড়াতেন সেইন্ট নিকোলাস। আকাশে যখন অর্ধেকটা চাঁদ থাকত, সেই সময় নিজেকে আড়াল করে উপহার দিতেন তিনি, যাতে তাঁকে চেনা না যায়। সেই কারণে সান্টা নামে পরিচিত হয়েছিলেন নিকোলাস।
যে লাল পোশাকে আমরা সান্টা ক্লজকে বর্তমান দিনে দেখে অভ্যস্ত, বরাবর কিন্তু তাঁর পোশাক এমনটা ছিল না। আগে বাদামী এবং আরও অন্য রঙের পোশাকে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এই সব রঙের মধ্যে রয়েছে বেগুনি, সাদা এমনকি কালোও। বর্তমান দিনে সান্টার যে চেহারা তা তৈরি করেন থমাস নাস্ট। হারপার উইলকি নামে একটি পত্রিকার জন্য লাল রঙের পোশাকে সান্টাকে আঁকেন তিনি। অনেকে মনে করেন যে কোকা কোলার একটি বিজ্ঞাপনে প্রথম সান্টাকে লাল রঙের পোশাকে দেখা যায়। কিন্তু তা ঠিক ন। ১৯৩১ সালে কোকা কোলার ওই বিজ্ঞাপনের আগেই সান্টাকে প্রথম লাল পোশাকে এঁকেছিলেন থমাস নাস্ট।
স্যান্টা ক্লজের হাড়
সেন্ট নিকোলাসের শরীরের এক টুকরো হাড়ের মাইক্রোস্যাম্পল-এর উপর উন্নতমানের কার্বন-ডেটিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করেন অক্সফোর্ডে কেব্ল কলেজ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ সেন্টারের ‘রেলিক্স ক্লাস্টার’-এর ডিরেক্টর প্রফেসর টম হিগাম এবং জর্জেস কাজান। হাড়ের নমুনাটি দুই পুরাতত্ত্ববিদ সংগ্রহ করেছিলেন আমেরিকার ইলিনয়ের ‘সেন্ট মার্থা অব বেথানি চার্চ’-এর ধর্মযাজক, ফাদার ডেনিস ও’নিলের কাছ থেকে। তিনি পেয়েছিলেন ফ্রান্সের লিয়ঁ শহর থেকে।গবেষণার ফলাফলে প্রফেসর হিগাম ও ডক্টর কাজান নিশ্চিত, হাড়ের নমুনাটি সেন্ট নিকোলাসেরই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সে কথা জানান তাঁরা।১৮৯৭ সালে খবরকাগজের সম্পাদকীয়তে রূপকথার সান্তার অস্তিত্বের আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল। ১২০ বছর পর আজ অক্সফোর্ডের গবেষণায় সান্তার সেই অস্তিত্ব বাস্তব রূপ পেল!
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক শহর যার নাম 'সান্টা ক্লজ টাউন'।
স্যান্টা ক্লজ কেমন সে শহর?
স্যান্টা ক্লজ শহরে যেন সারা বছরই ক্রিসমাস। শহরের সীমানা যেখানে শুরু সেখানে স্যান্টা ক্লজের বিশাল আকারের একটি ভাস্কর্য। একই রকম ভাস্কর্য রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে।এখানকার মূল রাস্তার নাম ক্রিসমাস বুলোভার্ড। ক্রিসামসের সাথে জড়িয়ে থাকা লোক-কাহিনীতে যেসব চরিত্র রয়েছে সেগুলোর নামে রয়েছে শহরের আরও অনেক কিছু। যেমন রুডল্ফ লেন, ক্রিসমাস লেক।
শহরের স্যান্টা ক্লজ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট কুক বলছেন স্যান্টা ক্লজের নামে শহরটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার চিঠি আসে। প্রেরকের কাছে সেগুলোর উত্তরও পৌঁছে যায়।নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্যাট কুক ও তার শ'দুয়েক স্বেচ্ছাসেবী এসব চিঠির জবাব দেন।পশ্চিমা লোক-কাহিনীতে ক্রিসমাসে স্যান্টা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। সেই উপহার পেতে হলে সারাবছর দুষ্টুমি থেকে দূরে থাকতে হবে।
"যেমন ধরুন সারা বছর ভালো হয়ে চলার জন্য আমরা ধন্যবাদ দেই। স্কুলে ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য, অথবা ভাইবোনের সঙ্গে ঝগড়া না করার উপদেশ দেই। ছোট শিশুদের যেসব উপদেশ বানী দেয়া হয়, সেগুলো আর কি। ওদেরকে একটু জানানো যে সান্টা তাদের চিঠিটি পড়েছেন" বলছেন প্যাট কুক ।
চিঠির উত্তর লেখার দায়িত্ব যেমন স্বেচ্ছাসেবীরাই নিয়ে থাকেন, তেমনি এর খরচও চলে মূলত দানের অর্থে। শহরের বাসিন্দা মোটে দু'হাজার। কিন্তু শহরটিতে সারা বছর জুড়ে বেড়াতে আসেন অনেক লোক। ছয়ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি থেকে এসেছেন আর্মস্ট্রং পরিবার।
"ক্রিসমাসে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় সে নিয়ে আমরা গবেষণা করছিলাম। আমরা ক্রিসমাসে কোথাও না কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি। ফেইসবুকে হঠাৎ একটা আর্টিকেল দেখলাম যেখানে লেখা ছিল পরিবার নিয়ে ক্রিসমাসে বেড়াতে যাওয়ার সেরা দশটি যায়গা কোনগুলো। এভাবেই বুদ্ধিটা পেলাম। ঐ লিস্টে যে স্থানগুলোর নাম ছিল তার মধ্যে এই শহরটিই আমাদের সবচাইতে কাছে"।
স্যান্টা ক্লজ ও তার একজন সহকারী
স্যান্টা ক্লজ শহরের নামকরন?
১৮৫৫ সাল পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল স্যান্টা ফি। সেসময় শহরটিতে একটি নতুন পোষ্ট অফিস চালু করতে গিয়ে জানা গেলো আরও এক শহরের নাম স্যান্টা ফে। চিঠি পাওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্য তখন নাম না বদলে আর উপায় ছিলনা।তবে শহরের বাসিন্দারা স্যান্টা ক্লজ নামটি ঠিক কিভাবে বেছে নিলেন, সেই গল্পের কতটুকু বাস্তব আর কতটুক আসলেই গল্প -সেটি এত দিন পর নিশ্চিত জানা যায়না। এখানে আসা বহু চিঠির খামে শুধু স্যান্টা ক্লজের নামটাই লেখা থাকে।