রহস্যে ঘেরা এই বাড়িটি কার?
আর এন এস২৪.নেট
এমন আলিশান সুরম্য প্রাসাদের কাহিনি গল্পে-উপন্যাসে হয়তো কেউ পড়ে থাকতে পারেন। মানুষের প্রয়োজন কতোটুকু? মানুষের দেহের আকার বা সাইজ ধারণ করতে হলে কতোটা বিশাল আকৃতির বসত বাড়ি অথবা কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে কতোটা আলিশান প্রাসাদের প্রয়োজন হতে পারে? তাছাড়া দুনিয়ায় তো কেউ অবিনশ্বর বা চিরস্থায়ী নয়। পদ্ম পাতার অথবা কচু পাতার টলটলায়মান একফোঁটা জলের মতো মানুষের দুনিয়ার জীবন খুবই ক্ষনস্থায়ী। অথবা রবি ঠাকুরের সেই 'একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু'। যা কিনা প্রভাতের সূর্যের কিরন ফুটতে না ফুটতেই শুকিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। এটুকুই। বা তার চেয়েও কম সময় মানুষের জীবন। তারপরেও মানুষের কতো চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
মস্কোর উপকণ্ঠে বিলাসবহুল এক রাজপ্রাসাদ। এর মধ্যে রয়েছে ৯১,৫০০ বর্গফুটের লিভিং স্পেস। তিনতলা বিশিষ্ট এই ভবনে রয়েছে আরো ৩২,০০০ বর্গফুটের ফাঁকা জায়গা। আছে ২১,৫০০ বর্গফুটের আস্তাবল। বাড়িটি ১৫ একর জায়গার একপ্রান্তে। চারদিকে বেষ্টন করে আছে নিরাপত্তা দেয়াল। ভিতরে আছে একটি হেলিপ্যাড। ফুটবল খেলার মাঠ।
রয়েছে বিস্তৃত বন। একটি পরিপূর্ণ পুকুর। আর চারদিকটা ছবির মতো সাজানো। কিন্তু রহস্য দানা বেধেছে এই বাড়িকে ঘিরে। তা হলো, কে এই বাড়ির মালিক। এর কোনো সদুত্তর মিলছে না। অনেকেই এমনকি রাশিয়ার একটি পত্রিকা ধারণা করছে, এর মালিক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু এর পক্ষে অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। ফলে বাড়িটি নিয়ে রহস্যের পর রহস্য দেখা দিচ্ছে। এ নিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাড়িটির মালিকানার স্থানে লেখা ‘রাশিয়ান ফেডারেশন’। প্রশ্ন হলো রাশিয়ান ফেডারেশন যদি মালিক হয় তাহলে সরকারি তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা। মিডিয়াকে জানানোর কথা বাড়িটি কি উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে। এর নির্মাণ কাজ করছে ‘প্রপার্টি-ভি’ নামে একটি কোম্পানি। এর ফলে সংশয় দেখা দিয়েছে যে, সরকারের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ের কেউ হবেন এর মালিক। এমনকি তিনি পুতিনও হতে পারেন। রাশিয়ার সংবাদ বিষয়ক সাইট সোবেসেদনিক বাড়িটির আসল মালিক কে তা উদ্ধারে চেষ্টা চালায়। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে তারা। কিন্তু একজন কলামনিস্ট এটা উদ্ধার করতে পেরেছেন যে, পুতিনের ঘনিষ্ঠ চক্রের লোকজনের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ব্যবসার বহু কাজের সঙ্গে সম্পর্ক আছে প্রপার্টি-ভি-এর। প্রপার্টি-ভি এর একটি প্রজেক্ট আছে ক্রাসনায়া পোলিয়ানা, সোচি স্কি রিসোর্টে। ওই অঞ্চলে বসবাস করেন পুতিনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক জিমন্যাস্ট অ্যালিনা কাবায়েভার মা লুবোভ কাবায়েভা। উল্লেখ্য, অ্যালিনা কাবায়েভার বয়স এখন ৩৮ বছর। তিনি এরই মধ্যে মিডিয়া টাইকুন বা মিডিয়া ধনকুবের হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ আছে, শক্তিধর প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে রয়েছে তার দহরম মহরম। তবে উভয় পক্ষই এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।