বেশি সময় বসে বাড়িতে কাজ করতে বোর লাগছে? তাহলে টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জেনে নিন
মুন্নি খন্দকার
টাইম ম্যানেজমেন্ট টিপস প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রয়োজন। সফল হতে গেলে আপনাকে কাজ করতেই হবে, যথেষ্ঠ পরিশ্রম বা হার্ডওয়ার্ক করতে হবে। তবে, আপনি যদি হার্ড ওয়ার্ক এর সাথে ‘স্মার্ট ওয়ার্ক’ যোগ করতে পারেন – তবে এই সময় ও পরিশ্রমের পরিমান অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
কয়েকমাস সময় ধরে বাড়িতে বসেই কাজ করতে হচ্ছে সারা দুনিয়ায় বহু কর্মীকে। গোড়ায়
মনে হয়েছিল, পরিবারের সঙ্গে থাকা এবং অফিসের কাজ -- দুটো একসঙ্গে সামাল দেওয়াটা খুব
সহজ হবে। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে যে, অফিসের কাজ সারতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন
বলে আর কিছু থাকছে না। যে কাজ অফিসে সারতে সময় লাগত দু’ ঘণ্টা, বাড়িতে সেটা করতে পেরিয়ে
যাচ্ছে ঘণ্টা তিন-চার। হ্যাঁ, আপনার অফিসের ইন্টারনেট যত তাড়াতাড়ি কাজ করে, বাড়ির ওয়াই-ফাই
বা ব্রডব্যান্ডের সে শক্তি নেই। আমফানের পর পরিষেবা আরও খারাপ হয়েছে -- কিন্তু তা সাময়িক।
কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থা ভালো হবে। তার জন্য সাময়িকভাবে কয়েকদিন দেরি হতে পারে, রোজ
রাত ন'টা পর্যন্ত কাজ করার কথা নয়।
বাড়ির কাজ আর অফিসের কাজ একসঙ্গে করছেন
কী?
অফিসের টাইমিং মেনটেন করার চেষ্টা করুন। দশটা থেকে ছ’টার মধ্যে সব কাজ সেরে ফেলার
রুটিন বানাতে হবে আপনাকেই। অনেক সময়ে বাকি সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মিটিং করতে
গিয়েও অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। সেটাকেও কাজের অঙ্গ বলেই ধরে নিতে হবে। অফিস টাইমের মধ্যে
রান্না বা ঘরের কাজ করা যাবে না, সেটা হয় আগে সেরে নিন, না হলে পরে করবেন। লাঞ্চ ব্রেকে
একটু অবসর নিতে পারেন, তাতে কিন্তু প্রোডাক্টিভিটি কমে না।
সব পেশায় নিজের সুবিধেমতো সময়ে কাজ করা
যায় না
অনেকের ধারণা, ওয়ার্ক ফ্রম হোম মানে নিজের ইচ্ছেমতো সময়ে কাজ করার স্বাধীনতা। কিছু
কিছু পেশার ক্ষেত্রে তা হয়তো সম্ভব। বা ভোরবেলা উঠে আপনি কোনও জরুরি প্রজেক্ট, রিপোর্ট
বা প্রপোজাল তৈরি করে রাখতে পারেন। কিন্তু অফিস টাইমের বাইরে, নিজের ইচ্ছেমতো সময়ে
রোজ কাজ করতে গেলে দেখবেন আখেরে আপনারই ক্ষতি হচ্ছে। অন্য সহকর্মীদের কাজের সময়ে অজস্র
ফোন ধরতে হবে, মেলের উত্তর দেওয়ার জন্য বসতে হবে ল্যাপটপে -- তার চেয়ে সেই নিয়মই মানুন
যা করলে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারেন।
আপনার কাজের দেরির জন্য বাড়ির লোককে দায়ী করবেন না
সমস্যা
হচ্ছে আপনার প্ল্যানিংয়ে, কাজে দেরির জন্য বাড়ির কেউ দায়ী নয় -- এটা বুঝে নিন। তার
চেয়েও জরুরি বিষয় হচ্ছে, এখন আরও বেশ কিছুদিন আমাদের এভাবেই কাজ করতে হবে। চলবে সন্তানের
স্কুলও। তার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন এবং নিজের কোথায় ভুল হচ্ছে তা খতিয়ে দেখুন।
মনে রাখবেন, চাকরির বাজার এমনিতেই বেশ খারাপ। তার মধ্যে প্রোডাক্টিভিটি নিয়ে যেন সমস্যা
তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করার দায় আপনারই। অনেক অফিস ল্যাপটপে ট্র্যাকার লাগাচ্ছে – তাতেও নার্ভাস
হওয়ার কিছু নেই। নিয়ম মেনে কাজ করলে খামোকা বিপদে পড়ার আশঙ্কাই থাকে না।
অতিরিক্ত স্ট্রেস নেবেন না
বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করতে পারবেন না, পদে পদে ঠোক্কর খেতে হবে। নতুন একটা
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে, অনেকে অফিসের মতো সেট আপে ভালো কাজ করেন। হয়তো
আর কিছুদিন সময় পেলে আপনিও তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ফেলবেন। তা যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ ওয়ার্কিং
আওয়ারের মধ্যে বেশি ব্রেক নেবেন না। দরকারে প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট
সময় বরাদ্দ করুন, তার মধ্যে কাজ সারুন।
এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন:
খাওয়া বা ঘুমানোর মত মিডিয়া এখন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু যাঁরা কাজ করে অনেক বেশি উন্নতি করতে চান, মিডিয়া তাদের জন্য একটা অভিশাপ। নিজের সময়কে প্রোডাক্টিভ ভাবে ব্যবহার করার জন্য তাই সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন, নিউজপেপার, ম্যাগাজিন, বিনোদন মূলক সাইট – ইত্যাদি থেকে দূরে থাকাটা জরুরী (যদি এগুলোর কোনওটা আপনার পেশা না হয়)।
কাজের সময়ে ‘না’ বলুন:
আমরা অনেকেই ভদ্রতার খাতিরে অথবা কাছের মানুষদের কষ্ট দেয়ার ভয়ে কাজের সময় নষ্ট করে অন্যদের সময় দেই। এতে কাজের অনেক ক্ষতি হয়। এমন অবস্থায় লেখক পরামর্শ দেন, কাজের সময়ে দরজার বাইরে “ডু নট ডিসটার্ব” সাইন ঝুলিয়ে রাখার। অথবা আপনি সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে খুব বড় বিপদ বা ইমার্জেন্সী না হলে যেন কেউ আপনাকে না ডাকে। প্রয়োজনে কাজ শেষ করে দেখা করার বা কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিন। এটা যদি কেউ না বোঝে, সে আসলে আপনার ভালো চায় না। তারা আপনার ওপর মনো:ক্ষূন্ন হলেও পাত্তা দেবেন না।
আপনাকে হয়তো টিঁকে থাকার জন্য চাকরি করতে হবে, বা যা করতে ভালো লাগে না – তা করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি এর মধ্য থেকেই পর্যাপ্ত সময় বাঁচিয়ে নিতে পারেন – তবে দেখবেন স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক সময় হাতে থাকছে – যা কাজে লাগিয়ে আপনি বেঁচে থাকার জন্য অপছন্দের কাজ করার পাশাপাশিও নিজের স্বপ্নটাকে বাস্তব করার কাজকরতে পারছেন।
সময়ের মূল্য জীবনে সব কিছুর চেয়ে বেশি। টাকা বা সম্পদ হারালে ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু সময়কে ফিরে পাওয়া যায় না। একারণেই টাইম ম্যানেজমেন্ট এতটা জরুরী।