মশার কামড়ে করোনা ছড়ায় না, যে জিন থাকলে করোনার ঝুঁকি ৬০ ভাগ বেশি।
আর.এন.এস২৪.নেট
পঞ্চাশ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে পৃথিবীতে বসবাসরত
ন্যান্ডারথাল যুগের মানুষের জিনের সঙ্গে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের যোগসূত্র খুঁজে
পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে আরেকদল বিজ্ঞানী বলেছেন, মশার কামড়ে করোনা ভাইরাসের
বিস্তার ঘটে না। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যেসব
মানুষের দেহে ওই যুগের মানুষের জিনের উপস্থিতি রয়েছে, তারা করোনায় মারাত্মকভাবে
আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ যাদের দেহে উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জিন রয়েছে তাদের ভয়াবহভাবে করোনায়
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এ জন্য বিজ্ঞানীরা করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি
হওয়া প্রায় ৩২০০ মানুষ ও সাধারণ প্রায় ৯ লাখ মানুষের জেনেটিক প্রোফাইল তুলনা
করেছেন। তাতে তারা দেখতে পেয়েছেন যে, ন্যান্ডারথ্যাল যুগের ক্রোমোজম ৩ নামের
একগুচ্ছ জিন যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন অন্যদের তুলনায়
শতকরা ৬০ ভাগ বেশি। এ গবেষণার সহ-লেকক ম্যাক্স প্লাঙ্ক
ইনস্টিটিউট ফর ইভালুয়েশনারি অ্যানথ্রোপলোজি’র বিজ্ঞানী হুগো জেবের্গ বলেছেন, যেসব
মানুষের দেহে এই জিন আছে তাদের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা প্রয়োজন হয় বেশি।
বুধবার নেচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই জিনগুলোর বিভিন্নতা
রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ মানুষের দেহে আছে এই
জিন। অন্যদিকে ইউরোপে প্রতি ৬ জনে একজনের রয়েছে এই জিন। তবে আফ্রিকা ও পূর্ব
এশিয়ায় এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে কি কারণে এই জিন এতটা ঝুঁকি সৃষ্টি করে সে
সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেননি বিজ্ঞানীরা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কানসান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের
এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস মশার কামড় থেকে ছড়ায় না। ওয়েস্ট নিল ভাইরাস,
জাইকা সহ বিভিন্ন ভাইরাস এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্যের দেহে সংক্রমিত করে মশা।
কিন্তু গবেষণাগারে এমন রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী এমন কয়েক প্রজাতির মশা ও মানুষকে
কামড়ায় এমন কিছু পতঙ্গ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসব মশা বা
পতঙ্গের দেহে করোনা ভাইরাস টিকে থাকতে পারে না। বুধবার এ বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত
হয়েছে নরড়জীরা’তে।