নেপালি পুরোহিতের হুঁশিয়ারি
আর.এন.এস২৪.নেট
করোনা ভাইরাসের কারণে নেপালের মন্দির, উপাসনালয়গুলো বন্ধ। বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ। মার্চ থেকে সেখানে লকডাউনে এমন বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় অনেক আচার অনুষ্ঠান কমিয়ে আনা হয়েছে। শতাব্দীর প্রাচীন অনেক রীতি মানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধর্মীয় নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, ঐশ্বরিক ক্ষোভ থেকে দেশে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, সামনেই বড় ধরনের উৎসব দেশাই এবং তিহার। কিন্তু
তার আগে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অক্টোবরে দেশাই এবং নভেম্বরে
তিহার উৎসব। কিন্তু সেই উৎসব কিভাবে পালিত হবে তা এখনও পরিষ্কার করে বলা হয় নি। নেপালে
মুলত হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রাধান্য। তবে করোনা মহামারিতে খুব কমই
উৎসব পালন করা হয়েছে সেখানে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে রথ যাত্রা হয়তো বাতিল করা হয়েছে,
না হয় খুক কম মানুষের উপস্থিতিতে পালিত হয়েছে। এই উৎসবে সাধারণত মানুষের ঢল নামে। গত
মাসে বৃষ্টির দেবতার উদ্দেশে রথযাত্রা হয়। একে বলা হয় ইন্দ্র যাত্রা। সরকারি নির্দেশ
অমান্য করে এতে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক ক্ষিপ্ত মানুষ। এ সময় সেখানে সংঘর্ষ হয়। পরে ওই
ইন্দ্র যাত্রা পালিত হয় খুবই সীমিত আকারে, পুলিশের উপস্থিতিতে।
রাতো মাছিন্দ্রনাথ যাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান পুরোহিত কপিল বজরাচার্য্য। এই অনুষ্ঠান
পালিত হয় কৃষির দেবতার সম্মানে। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সীমাবদ্ধ করা অত্যন্ত
দায়িত্বহীনের কাজ। আমার পরিবার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব পালন করে আসছে। আমি
অত্যন্ত বেদনাহত এ জন্য যে, আমার সময়ে এসব অনুষ্ঠান পালন করতে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।
আমার জানামতে, এর আগে কখনো এই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয় নি। ৭২ বছর বয়সী এই পুরোহিত আরো
বলেন, নেপাল হলো দেবতাদের পবিত্রভূমি। যদি দেবতারা ক্ষুব্ধ হন, তাহলে করোনা ভাইরাসের
চেয়েও ভয়াবহ সমস্যায় পড়বো আমরা। ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নেপাল সরকারের
যে উদ্যোগ তার বিরুদ্ধে আমার রয়েছে গুরুত্বর আপত্তি।
পাতানের ৩৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী বাবুরাজা জাপু। তিনি বিশ্বাস করেন, নেপালি সরকারের সিদ্ধান্ত
মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত দিচ্ছে। আমি ধর্মে খুব বিশ্বাস করি। আমার দৃষ্টিতে প্রবীণরা
অধিক পরিমাণে ধর্মীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। সরকার যদি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখে, তাহলে
মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাবে।
কাঠমান্ডুতে একজন কুমারী দেবীকে দেখাশোনা করেন গৌতম শাক্য। ওই কুমারী প্যালেস স্কয়ারের
কাছে একটি বিশেষ মন্দিরে বসবাস করেন। গৌতম শাক্য বলেন, আমরা নিরাপত্তার প্রোটোকল অনুসরণ
করছি। এ বছর কোনো বড় অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা কম। দাশাই উৎসবের অষ্টম দিনে তালেজু মন্দিরে
দেবীর উপস্থিতি নিয়ে এখনও সরকারের সঙ্গে কথা হয় নি। আমার মনে হচ্ছে, অন্য বারের মতো
এবার জনসমাগম হবে না। আমরা তো কুমারী দেবীকে ওই উৎসবে নিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। অনেক
মানুষ বিশ্বাস করেন যে, যদি আমরা যথাযথভাবে উপাসনা করতে না পারি তাহলে খারাপ কিছু ঘটে
যাবে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে আমাদেরকে বাস্তববাদী হতে হবে। যদি আমরা বেঁচে থাকি, তাহলে
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উৎসব, রীতি রেখে যেতে পারবো।
বিবিসির রিপোর্ট