ইতালিতে দীর্ঘ হচ্ছে জরুরি অবস্থা, কঠোর লকডাউনে মাদ্রিদ
আর.এন.এস২৪.নেট
ইতালির প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এদিকে স্পেন সরকার দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে।
নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম দফার প্রবাহে ইউরোপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি ও স্পেন অন্যতম। ইউরোপে এখন নতুন করে করোনা সংক্রমণের জোয়ার তৈরি হওয়ায় এ দুই দেশই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এদিকে স্পেন সরকার দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। অবশ্য মাদ্রিদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশগুলোয় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগে থেকে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইতালি সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তের প্রশাসন আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ অবধি জরুরি অবস্থা চালু রাখার পরিকল্পনা করছে। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে জরুরি অবস্থা উঠে যাওয়ার কথা ছিল।
কন্তে প্রশাসনের জরুরি অবস্থা চালিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার নেপথ্য কারণ হলো আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো। জরুরি অবস্থা থাকলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে আরো বেশি ক্ষমতা থাকবে। ফলে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ও সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
কন্তে পার্লামেন্টে জরুরি অবস্থা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখবেন বলে জানা গেছে। ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কাসের্তা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্টে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করব। হয়তো আগামী জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত তা বাড়ানো হতে পারে।’
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালিকেই সবার প্রথম করোনা মহামারীর তাণ্ডব মোকাবেলা করতে হয়েছে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত কঠোর লকডাউন পালনের মাধ্যমে দেশটি সংক্রমণে লাগাম দিতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন।
ইতালিতে গত দুই মাসে সংক্রমণের দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ফের বাড়তে শুরু করেছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত তা দৈনিক দুই হাজারের মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
স্পেনে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে রাজধানী মাদ্রিদকে। সেখানে প্রতি এক লাখ অধিবাসীর মধ্যে ৭৩৫ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। ইউরোপের যেকোনো অঞ্চল বিবেচনায় এ হার সর্বোচ্চ। আর স্পেনের জাতীয় সংক্রমণ হারের তুলনায় তা দ্বিগুণ। স্পেনে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩১ হাজার ৭৯১ জন।
মাদ্রিদে করোনা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সরকার সেখানে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। ৩০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত মাদ্রিদ ও আশপাশের কয়েকটি শহরে সামনের দিনগুলোয় লকডাউন আরোপ করতে চলেছে সরকার।
তবে সরকারের এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন কমিউনিটি অব মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল ডিয়াজ আয়ুসো। তার দাবি, যে কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার আইনগত কোনো অধিকার নেই কারো সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেয়ার। তিনি বলেন, ‘আপনি সবাইকে লকডাউন করে রাখতে পারবেন না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের পরিকল্পনাই সেরা: সন্দেহভাজনদের দ্রুত পরীক্ষা করা, আক্রান্তদের কোয়ারেন্টিনে রাখা, আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালু রাখা।’
ডিয়াজ আয়ুসো গতকাল বলেন, ‘আমরা আদালতে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাব। এ মুহূর্তে আমরা কৌঁসুলিদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে কী করা যায়।’
দেশে দেশে বাড়ছে সংক্রমণ: গতকাল ৭৫২ জন নতুন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে সুইডেনে, যা ৩০ জুনের পর সর্বোচ্চ। অবশ্য এদিন দেশটিতে কোনো কভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে মহামারী শুরুর পর থেকেই সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে গতকাল। এদিন ১ হাজার ১০০ নতুন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে সেখানে। ৪ জুনের পর সর্বোচ্চ সংক্রমণ রেকর্ড করেছে মালয়েশিয়া। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ১৭-২৩ সেপ্টেম্বর—এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ ৬১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে সেখানে ৩১ হাজার ৩৭৩ জন নতুন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬১ শতাংশ বেশি। গতকাল রেকর্ড দৈনিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে পোল্যান্ড ও ইউক্রেনে। দেশটিতে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৬৭ ও ৪ হাজার ৬৯ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে। রাশিয়ায় গতকাল নতুন করে ৮ হাজার ৯৪৫ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ১২ জুনের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।
খবর দ্য গার্ডিয়ান।