ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিধিনিষেধ, ফ্রান্সের শহরে শহরে কারফিউ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আটটি শহর সহ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তা খা
খা। গত রাত থেকে সেখানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমিয়ে আনতে জারি করা হয়েছে কারফিউ।
ইউরোপে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হটস্পট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে যেসব দেশকে, তার
মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। তবে সরকারের এমন পদক্ষেপে খুশি নন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তারা
এই বসন্তে দুই মাসের লকডাউন পালন করেছেন। তারপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবার খোলার পর
নতুন করে দেয়া হয়েছে কারফিউ। এতে বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তা সত্ত্বেও
জনগণকে বাঁচাতে সরকার কারফিউয়ের আশ্রয় নিয়েছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ওদিকে ইতালিতে নতুন করে
বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা। প্রথম দফায় যখন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে
তখন সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ইতালিতে আঘাত করে তা। আবার নতুন করে সেখানে সংক্রমণ দেখা
দিয়েছে। শনিবার সেখানে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আজ রোববার
নতুন পদক্ষেপ ঘোষণার কথা রয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুসেপে কোন্টে’র। স্থানীয়
মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে জিম, পুল, বিভিন্ন রকম খেলাধুলার
ইভেন্ট সহ অত্যাবশ্যক নয় এমন খাতগুলোকে টার্গেট করা হতে পারে।
অন্যদিকে মাসেইলি, লিওন, লিলি, তোলুজ সহ রাজধানী প্যারিসে মাসব্যাপী কারফিউ দিয়েছে
ফ্রান্স সরকার। এর আওতায় রয়েছেন প্রায় দুই কোটি মানুষ। এই কারফিউ প্রতিদিন স্থানীয়
সময় রাত ৯টায় শুরু হয়ে ভোর ৬টা পর্যন্ত স্থায়ী হবে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন
বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীতে উপচে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এই কারফিউ প্রয়োজন। তবে এতে
ব্যবসা যে মারাত্মক ক্ষতিতে পড়বে সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন বহু মানুষ। প্যারিসে ইতালিয়ান
রেস্তোরাঁ বিয়ানকো’র ম্যানেজার স্টেফানো আনসেলমো বলেছেন, এই বিধিনিষেধে অনেক কর্মী
কাজ হারাবেন নিশ্চিত। এটা এক বিপর্যয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী,
শনিবার একদিনে সেখানে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৪২৭ জন। এর
একদিন আগে এই সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৮৬।
ইউরোপের বাকি অংশের কি অবস্থা
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইগোর মাতোভিচ বলেছেন, তার দেশে ১০ থেকে শুরু করে
তদুর্ধ্ব বয়সী প্রতিজনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে
যাওয়ার জন্য সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ মাসে একবার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা
করেছিল। তবে এ সপ্তাহে নতুন করে আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। এর আওতায় চার্চে
প্রার্থনাসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিটনেস সেন্টার,
পুল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘরে বসে স্কুলের পড়াশোনা করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মাতোভিচ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পরীক্ষা করা হবে বিনামূল্যে। তবে
এই পরীক্ষা বাধ্যতামুলকভাবে নাকি স্বেচ্ছায় নাগরিকরা করাবেন সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট
করেননি। তিনি বলেছেন, যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে তা পুরো বিশ্বের কাছে একটি
উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই দেশটিতে জনসংখ্যা ৫৪ লাখ। সরকার নতুন করে শনিবার বিধিনিষেধ
আরোপ করায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে প্রায় ৫০০
নিও-নাৎসী এবং ফুটবলের কট্টর কিছু ভক্ত। তারা রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় বিভিন্ন
সরকারি ভবনে বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করেছে।
জার্মানিতে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল জনগণকে ঘরের ভিতর অবস্থান করার আহ্বান
জানিয়েছেন। সাপ্তাহিক ভিডিও পোডকাস্টে তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণের
বাইরে যাওয়া প্রতিরোধ করতে আমরা সব কিছু করবো। প্রতিটা দিনে কম সংখ্যক মানুষের
সঙ্গে সাক্ষাত করুন- হোক সেটা বাড়িতে বা বাড়ির বাইরে। অত্যাবশ্যক নয় এমন যেকোনো
ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
এল পাইস পত্রিকার খবর অনুযায়ী, গত জুলাই অক্টোবরের চেয়ে অতিরিক্ত ১১ হাজার মানুষ
বেশি মারা গেছেন স্পেনে। নেদারল্যান্ডে ডাচ রাজ পরিবার গ্রিসে অবকাশ যাপন
সংক্ষিপ্ত করেছে তীব্র সমালোচনার মুখে। সরকার যখন আংশিক লকডাউন ঘোষণা করে তার পর
পরই তারা এই সফর শুরু করেন। ফলে এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। জবাবে রাজা
উইলেম-আলেকজান্দার এবং রাণী ম্যাক্সিমা বলেছেন, মিডিয়ার রিপোর্টে আমরা জনগণের
প্রতিক্রিয়া দেখিছি। আমরা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব রাখতে
চাই না। গাইডলাইন মেনে চলা প্রয়োজন। আমাদের অবকাশ যাপন আসলে সে অনুযায়ী হয়নি।
ওদিকে বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডকে রেড জোনে ভাগ করা হয়। সেখানে স্কুল, জিম বন্ধ রয়েছে
রাজধানী ওয়ারশ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার থেকে ৫ জনের বেশি মানুষকে একত্রিত
না হতে নির্দেশনা দিয়েছে পর্তুগাল সরকার। বিয়ে বা প্রার্থনা অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ
৫০ জনকে উপস্থিত হতে অনুমোগিত দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টি আয়োজন
নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলাফেরা সীমিত করা হয়েছে। সোমবার থেকে
সেখানে সিনিয়র স্কুলগুলো (যেখানে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা পড়াশোনা করে) বন্ধ থাকবে।